চুরির অপবাদে মুক্তিযোদ্ধাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

|

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে আকবর আলী ওরফে ধনী (৮০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

তবে মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে স্থানীয় মাতবব্বরা। কিন্তু অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিতে রোববার বিকেলে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।

এদিকে এ ঘটনায় শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আকবর আলী ওরফে ধনী। এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওরানী এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে এই ঘটনাটি ঘটে।

নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। আর অভিযুক্ত মহির উদ্দিন ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, ওই ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীর ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মুক্তিযোদ্ধার নিজ বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। এরপর চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ মিলে জোরপূর্বক ওই মুক্তিযোদ্ধাকে চেয়ারের সাথে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে রাখেন। এরপর চলে নির্যাতন।

বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর একপর্যায়ে স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাপে মুক্তিযোদ্ধা ধনীর হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতে ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী।

ওই এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা বলেন, ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে গরু চুরি করছে এমন অভিযোগ তুলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনীকে গ্রাম পুলিশ ও চেয়ারম্যান তুলে নিয়ে গিয়ে চেয়ারের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে স্থানীয়দের রোষানলে মুক্তিযোদ্ধার হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী ধনী বলেন, আমার ছেলে নাকি গরু চুরি করেছে। এমন অভিযোগ তুলে আমার বাড়িতে এসে চেয়ারম্যান ও চৌকিদার জোরপূর্বক আমাকে তুলে নিয়ে যায়। কোন কিছু না বলেই চেয়ারে বসিয়ে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে থাকি বলেই হাউমাউ করে কান্না শুরু করেন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি শুধু একটাই কথা বলেন দেশ স্বাধীন করে শেষ বয়সে আমি এই পেলাম। আমি এর সঠিক বিচার চাই। তাই থানায় অভিযোগ করেছি।

এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে কোন মারধর করা হয়নি। তার ছেলে গরু চোর সে জন্য তাকে ডাকা হয়েছিলো। আপনি পরিষদ বাদ দিয়ে নিজ বাড়িতে বিচার সালিশ করে কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তার কোন সদুত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply