পুতিনের সমালোচক নাভালনির সাড়ে ৩ বছরের জেল

|

স্থগিত এক দণ্ডের নির্দেশনা অমান্য করার অপরাধে সাড়ে তিন বছরের জেল দেওয়া হয়েছে রাশিয়ায় পুতিন-বিরোধী রাজনীতিক আলেক্সেই নাভালনিকে। মঙ্গলবার মস্কো কোর্ট নাভালনিকে এ সাজা দেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

জানা গেছে, এর আগে নাভালনিকে এক বছর গৃহবন্দী করে রেখেছিল রাশিয়া কর্তৃপক্ষ, যা এ সাজার মধ্যে থেকে বাদ দেওয়া হবে। গত মাসে রাশিয়ায় পা রাখার পর থেকেই কারাবন্দী ছিলেন রাশিয়ার এ বিরোধী দলীয় নেতা।

নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ দিয়ে হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর জার্মানিতে কয়েক মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেই আটক হন নাভালনি। বিমানবন্দর থেকে এ পুতিন সমালোচককে আটক করা হয়।

সম্প্রতি এক বিবৃতি জারি করে রাশিয়ার কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৪ সালের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল নাভালনিকে। তবে আদালত তিন বছর সাজা দিলেও কারাগারে দিন কাটাতে হয়নি তাকে। কারণ দোষী সাব্যস্ত হলেও নাভালনির সাজা মওকুফ করে দেওয়া হয়। কিন্তু শর্ত মোতাবেক তাকে থানায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সময়ে সময়ে হাজির দিতে হয়।

এদিকে, গত ১৭ জানুয়ারি নাভালনির গ্রেফতারের পরপরই রাশিয়ার পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে আছে। নাভালনির সমর্থনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ অন্যান্য নগরীতে সড়কে বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে।

ক্রেমলিনের এই সমালোচকের মুক্তি দাবিতে তীব্র ঠান্ডা আর ভারী তুষারপাত উপেক্ষা করে গত দুই সপ্তাহ ধরে রাস্তায় হাজার হাজার জনতা নামছেন। আর বিক্ষোভ দমনে উঠেপড়ে লেগেছে রাশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিয়মিত ধরপাকড়ে রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের কারাগার উপচে পড়ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, নাভালনির সমর্থনে বিক্ষোভ সবরকমভাবে দমনের চেষ্টা করছে রাশিয়ার পুলিশ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্ষোভের সময় নাভালনির চার হাজারের বেশি সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ।

নাভালনির সমর্থকরা দাবি করছেন, পুলিশ এ পুতিন সমালোচকের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের গৃহবন্দী করছে। নাভালনির ভাই ওলেগকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে জানান তারা।

বিক্ষোভ চলাকালীন ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনি জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের সময় পুলিশ তাকে আটক করেছিল। পরে ছেড়ে দেয়। গত ৩১ জানুয়ারি তিনি লেখেন, ‘যদি আমরা চুপ থাকি, তবে আগামীকাল তারা আমাদের যে কারও কাছে আসবে।

ইউএইচ/





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply