আড়াই বছর পর রবার্টের মরদেহের বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি

|

রবার্ট মায়রন বার্কার (৭৮)।

আড়াই বছর ঢামেক মর্গে পড়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রবার্ট মায়রন বার্কার (৭৮) এর মরদেহ। রবার্টের বাংলাদেশি স্ত্রী মাজেদা বেগম স্বামীর লাশ সৎকার করার জন্য মার্কিন দূতাবাসে দৌঁড়ে হয়রান হলেও লাশের বিষয়ে কোনো সুরাহা পাননি তিনি। তবে এবার মরদেহের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

রবার্টের মরদেহের বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ বিষয়ে রবার্টের পরিবারকে সমবেদনা দেয়া ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।

দূতাবাস জানায়, বিদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সুরক্ষার চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং বিদেশে অবস্থিত তাদের দূতাবাস এবং কনসুলেটগুলির বড় কোন দায়িত্ব নেই। তবে বিদেশে মার্কিন নাগরিকদের কল্যাণ ও সুরক্ষার বিষয়গুলো অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যখন কোন মার্কিন নাগরিক বিদেশে মারা যায়, তখন পররাষ্ট্র বিভাগ পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনকে সমস্ত কূটনীতিক সহায়তা সরবরাহ করে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর মধ্যে মৃত্যুর পরবর্তী আত্মীয়-স্বজনকে শনাক্ত এবং অবহিত করার চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একইসাথে স্থানীয় কবরস্থানের জন্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ব্যক্তির রেখে যাওয়া এমন কিছু ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা কীভাবে করা যায় সে সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করে থাকে। সেইসাথে বিদেশে আমেরিকান নাগরিক মারা যাওয়ার কনস্যুলার রিপোর্ট প্রস্তুত করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

দূতাবাস জানায়, আমরা তাদের (রবার্টের পরিবার) ক্ষতির জন্য আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমরা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সমস্ত উপযুক্ত কনস্যুলার সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত। আমরা পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দিচ্ছি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধার বাইরে আমাদের আর কোনও মন্তব্য নেই।

উল্লেখ্য, রবার্ট মারা যান ২০১৮ সালের ২৫ মে। সেদিন থেকে তার মরদেহটির ঠিকানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের ফ্রিজ। আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও লাশের সৎকার কিংবা স্বজনের কাছে হস্তান্তর করতে পারছে না থানা পুলিশ।

রবার্টের পাসপোর্টের নাম রবার্ট মায়রন বার্কার। জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। জন্ম ২৪ জুলাই ১৯৩৯, ধর্ম খ্রিস্টান। পাসপোর্ট নম্বর-৪৫২০৮৬০৮৮। ঠিকানা ইন্ডিয়ানা, ইউএসএ। ভিসার বিবরণ অনুযায়ী, রবার্ট আনপেইড বা অবৈতনিক কর্মকর্তা বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বাংলাদেশে আসেন। ২০১৮ সালের ২৫ মে অসুস্থ অবস্থায় দক্ষিণখানের বাসায় মারা যান রবার্ট। এরপর গত আড়াই বছর তার লাশ পড়ে আছে ঢামেকের মর্গে।









Leave a reply