এমপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার ফেসবুক পোস্টে থানায় মামলা

|

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর তার লোকজন দিয়ে বাড়িতে হামলা, জমি দখল, মারপিট, মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ অর্থ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট এবং সম্মানহানি হয়েছে মর্মে কচাকাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন কচাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফেসবুক পোস্টে মেহেদি হাসান লেখেন, “আমার বাবাকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চাই। ২৫ কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি সাহেব তার লোকজন দিয়ে আমার চাচার বাড়িতে হামলা করে বাড়ি জমি দখল করেছে। মিথ্যা মামলা করছে। আমার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বৃদ্ধ মানুষ তাকে মারপিট দখলকৃত বাড়িতে আটকে রেখেছে। আমি ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই। তার সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে মুক্তি চাই।”

ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়ার কারণ জানতে চাইলে মেহেদি হাসান জানান, তার পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ভোটের হাইল্যা গ্রামে। সেখানে জালির চর এলাকায় জমিজমা নিয়ে ছমির উদ্দিন গংদের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। ছমির মিয়া সংসদ সদস্যের ছত্রছায়ায় চলে। আজ সকালে ছমিরের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি দল আমার চাচার বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির সদস্যদের মারপিট করে। এসময় আমার বৃদ্ধ বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক কাশেম মাষ্টারকে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং পা ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া মহিলাসহ আরও ছয়জনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। এরআগে ছমির মিয়া এমপির মদদে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করে। ফেসবুক পোষ্টটি ঘিরে কেউ মামলা বা জিডি করেছে কিনা আমার জানা নেই।

জাতীয় সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর জানান, আমাকে নিয়ে মেহেদি হাসানের ফেসবুক আইডিতে দেয়া পোষ্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আমার আইডিতে এর প্রতিবাদ করেছি।

থানায় জিডির আবেদনকারী কচাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, ফেসবুকে পোষ্ট দেখে আমাদের মনে হয়েছে, আমাদের দলের এবং এমপির সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এমপি’র সাথে পরামর্শ করে জিডি করা হয়েছে।

কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৮/৯জন আহত হয়েছে। আমরা উভয় পক্ষের ৬ জনকে আটক করেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের হবে। এছাড়া আটকদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলার পরোয়ানা জারি ছিলো।

ফেসবুকের পোষ্ট ঘিরে জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তীতে এমপি মহোদয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply