ঠাণ্ডার ভয়ে সকালের হাঁটা বাদ?

|

ঠান্ডার ভয়ে সকালের হাঁটা বাদ?

অনেকেই শীতকালে বেশ খানিকটা ওজন বাড়িয়ে ফেলেন। এই ওজন পরবর্তী বছরেও আর কমে না। কিন্তু শীতের সঙ্গে ওজনের কী সম্পর্ক?

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের এই গবেষণা বলছে, গড়পড়তা বেশির ভাগ মানুষই শীতকালে একটু কম চলাফেরা ও হাঁটাহাঁটি করেন, শীতের ভয়ে কমিয়ে দেন প্রাতর্ভ্রমণও; কিন্তু ওদিকে শীতকালে খাবারের পরিমাণও যায় বেড়ে। গ্রীষ্মের তুলনায় শীতে খাওয়া হয় বেশি, কিন্তু ক্যালরি ক্ষয় হয় কম। বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীরে মেদ জমে তাড়াতাড়ি। তাই শীতকালেও ব্যায়াম করতে হবে।

অবশ্য, ইঁদুরের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের মধ্যে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য ‘শ্বেত’ চর্বি ‘বাদামি’ চর্বিতে রূপান্তরিত হতে থাকে। ‘শ্বেত’ চর্বির কারণে শরীর স্থূল হয়। এ জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। সেই তুলনায় ‘বাদামি’ চর্বি শরীরের জন্য কম ক্ষতিকর। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মলিক্যুলার সেল সাময়িকী। এতে বলা হয়, বাদামি চর্বি গঠনে জেডএফপি৫১৬ নামের একটি আমিষের জোরালো ভূমিকা আছে।

এদিকে শীতকালে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ে এখন অনেকেই সকালের হাঁটা বাদ দিয়েছেন। কিন্তু দৈনিক হাঁটার অভ্যাস বাদ দেওয়াটা ভালো কথা নয়। ঠাণ্ডা এড়াতে বরং আপনি কিছু পরামর্শ মেনে চলতে পারেন। যেমন কুয়াশা ও শিশিরের হাত থেকে বাঁচতে খুব ভোরে বা সন্ধ্যায় না হেঁটে সময়টা পাল্টে নিন। সকালের নরম রোদটা ওঠার পর বা বিকেলে হাঁটতে বের হতে পারেন। দুই বা তিন স্তরে জামা পরুন। মাথায় অবশ্যই একটা টুপি বা স্কার্ফ। কেননা এই সময় দেহের এক-তৃতীয়াংশ তাপ মাথা থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। পায়ে পরুন মোজা ও কেডস। হাঁটা শুরুর আগে ওয়ার্মআপ করে নেওয়া দরকার। আর বেশি বেশি পানি পান করুন।

এছাড়া শীতের কারণে বাইরে বেশি বের না হতে চাইলে ঘরেও ব্যায়াম করতে পারেন। শীতে বাড়ির সামনে বা পাড়ার রাস্তায় ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল বা ভলিবল জাতীয় খেলাধুলার প্রচলন প্রায় উঠে যাচ্ছে। কিন্তু এগুলো বেশ ভালো কাজ দিতে পারে। ইনডোর পুলে সাঁতারও একটা ভালো ব্যায়াম। শীতে শরীর ঠিক রাখার জন্য কাজে বাইরে বের হলে যানবাহন না নিয়ে বেশ খানিকটা হাঁটুন, হেঁটে বাজার করুন, সিঁড়ি ভাঙুন। আলস্য কাটাতে বাড়িতে কায়িক পরিশ্রম করুন। যেমন ছাদে বাগান করুন বা ঘর পরিষ্কার করুন। করতে পারেন যোগব্যায়াম বা অ্যারোবিক।

শীতকালে খাওয়া হয় বেশি। তাছাড়া পিঠাপুলি, পায়েস খাওয়া বেড়ে যায় এ সময়। খাবেন বটে, তবে রয়ে-সয়ে। খাবারের হিসাব রাখুন। চর্বিহীন পুষ্টিকর খাবার যেমন স্যুপ এবং প্রচুর সবজি রাখুন খাবারের তালিকায়। ঘন ঘন চা-কফি খেলেও চিনিটা এড়িয়ে চলুন।

তথ্যসূত্র: এবিসি হেলথ।









Leave a reply