কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম

|

আদালতের রায়ে ধর্ষক সাব্যস্ত হওয়া ভারতের বিতর্কিত ‘ধর্মগুরু’ গুরুমিত রাম রহিম সিংকে হরিয়ানার রোহটাকের একটি কারাগারে নেয়া হয়েছে। সেখানে একটি বিশেষ কারাকক্ষে রাখা হচ্ছে তাকে। ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, কারাগারে তাকে বোতলজাত পানি সরবরাহ করা হবে, সাথে একজন ব্যক্তিগত সহকারীও রাখতে পারবেন রাম রহিম সিং!

২০০২ সালে ২ নারী শিষ্যকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল পঞ্চকুলার আদালত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে। গতকাল বিকালে রায় ঘোষণার আগে চরম নাটকীয়ভাবে আদালতে প্রবেশ করেন রাম রহিম সিং। হরিয়ানার সির্সায় অবস্থিত তার ডেরা থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে ২৫০ কিলোমিটার দূরের পঞ্চকুলার আদালত পাড়ায় আসেন। ২০০ গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে বিপুল সংখ্যক অনুসারী পুরোটা পথ তাকে সঙ্গ দেয়। স্লোগানে স্লোগানে আদালত পাড়ার বাতাস উত্তপ্ত করে রাখে তারা।

দোষী সাব্যস্ত করে আদালতের রায়ের পর তাকে গ্রেফতার করে হেলিকপ্টারযোগে রোহটাক নেয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়ার সময় এক নারী বেশকিছু ব্যাগ-লাগেজ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব রাম রহিমের মালামাল।

রোহটাকে নামার পর রাম রহিমকে সেখানকার পুলিশের গেস্ট হাউসে নেয়া হয় যেটি অস্থায়ী কারাগারে হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। সন্ধ্যার দিকে সেখান থেকে কারাগারে নেয়া হয় তাকে। এদিকে, রাম রহিমকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে রোহটাক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, অন্য ১০ জন আসামির মতোই বিবেচনা করা হচ্ছে তাকে। যদিও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসছে ভিন্ন চিত্র। রাম রহিমকে যথাসম্ভব স্বাচ্ছন্দ্যে রাখার চাপ আছে পুলিশের ওপর।

গতকাল আদালতে সাদা পোশাক পরে আসেন গুরুমিত রাম রহিম সিং। বিচারক যখন রায় ঘোষণা করছিলেন তখন বন্ধ চোখে হাতমুঠো করে প্রার্থনা করতে দেখা যাচ্ছিল তাকে।

রায় ঘোষণার পর ‘ধর্মগুরু’র হাজার হাজার সমর্থক সহিংস হয়ে উঠে। যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, গণসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সাধন করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে তাদের। সির্সায় রাম রহিমের নিজের এলাকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ২৫০ জন। এছাড়াও পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও রাজস্থানেও বিক্ষোভ করে তার অনুসারীরা। এসব এলাকায় বড় ধরনের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন।

(এনডিটিভি অবলম্বনে তোয়াহা ফারুক)
যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply