তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণে ব্যর্থ, রাতভর শারীরিক নির্যাতন

|

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী থেকে তুলে নিয়ে তরুণীকে (১৯) ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রাতভর মারধর করেছে তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পী (২৯) ও তার তিন সহযোগী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে সাবেক স্বামীসহ ৪ জন ও সিএনজি চালকসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে ভুক্তভোগী নিজেই সুধারাম মডেল থানায় মামলা করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে এখন এক আত্মীয়ের বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই নারী।

এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় ওই নারীর সাবেক স্বামীসহ তিনজন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে এমন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

আসামিরা হলো- ওই তরুণীর সাবেক স্বামী কবির হাট উপজেলার নবগ্রামের মোঃ. ইউসুফের ছেলে ইসমাইল হোসেন বাপ্পী, তার সহযোগী একই গ্রামের রহিম (২৪), আরমান (২৫) সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের সাগর (৩৫)।

এ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিজ কর্মস্থল জেলা শহর মাইজদীর গ্রীণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মাইজদীস্থ বাসায় ফিরছিলেন শিক্ষানবিশ ওই নার্স। মাইজদী পেট্রোল পাম্পের সামনে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন এসময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি গন্তব্যে যাবার জন্য উঠে পড়েন। পরে ওই গাড়িটি একটু সামনে গেলে দুজন যাত্রী সামনের সিটে ওঠেন।

আর একটু সামনে গেলে তার সাবেক স্বামী ও আরও একজন ভিকটিমের দু পাশে উঠে বসেন। সিএনজিচালিত অটো রিক্সায় ওঠার পর থেকেই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে তার সাবেক স্বামী বাপ্পী ও তার সহযোগী রহিম (২৪)। চোখ-মুখ চেপে ধরে কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে নিয়ে যায় তাকে। সিএনজি থেকে নামানোর পর বুঝতে পারে এটি তার সাবেক স্বামী ইসমাইল হোসেন বাপ্পির বাড়ি। ফাঁকা বাড়িতে সাবেক শ্বশুর-শাশুড়ি কেউই নেই।

সিএনজিতে মারতে মারতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। ঘরে ঢুকিয়েও বেদম মারধর করে তার সাবেক স্বামী। রাতে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনে মুখমণ্ডলে ছ্যাকা দেয়া ও অপর দুইজনসহ ধর্ষণের চেষ্টা করে কিন্তু নির্যাতন সহ্য করে ধর্ষণ থেকে রক্ষা পান ওই নারী।

স্বজনরা জানান, ছোট বেলায় বাবাকে হারান ভিকটিম, নতুন করে বিয়ের পিড়িতে বসেন মা। অভিভাবক শূন্য হয়ে নানির কাছেই বড় হন তিনি। নবগ্রামে নানির কাছে থাকা অবস্থায় বখাটে ইসমাইল হোসেন বাপ্পির নজরে পড়েন তিনি। বাপ্পি জোর পূর্বক অপ্রাপ্ত বয়সেই তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। কিন্তু বিয়ে করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। প্রায় সময়ই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। মারধর করতেন শাশুড়ি, ননদ, দেবরও।

বখাটেরা তিনজনই ছিল নেশাগ্রস্থ। ধর্ষণ করতে না পারলেও রাতভর নির্মম নির্যাতন করে ওই নারীকে। ভোরের দিকে অভিযুক্তরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে এ সুযোগে পালিয়ে মাইজদী চাচার বাসায় এসে আশ্রয় নেন তিনি। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন চিকিৎসাধীন। সন্ধ্যায় চাচার সহায়তায় মামলা দেন থানায়।

সুধারাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন জানান, রাতে ভুক্তভোগীর মামলা নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।









Leave a reply