হাসপাতাল ছাড়লেন ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা

|

নিজ পায়ে হেঁটেই হাসপাতাল ছাড়লেন ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা খানম।

হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রায় এক মাস পর রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ওয়াহিদা খানম। তাকে মিরপুরের সিআরপিতে নেয়া হয়েছে। হামলায় আহত তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ওমর আলীও সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

সাবেক ইউএনও ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন জানান, তিনি এখন মোটামুটি সুস্থ। তাকে যখন আনা হয় তখন তার যে অবস্থা ছিল সেটির অনেক উন্নতি ঘটেছে। তার নতুন করে আর কোনো সার্জারি লাগবে না। বাকি যতটুকু রিকভার করার সময়ের সাথে সাথে করবে।

চিকিৎসকরা জানান, ইউএনও ওয়াহিদাকে প্রথম যখন আনা হয়েছিল তখন তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ায় তিনি দ্রুত সেরে উঠছেন।

এসময়, নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়মিতই এমন জটিল সার্জারি করা হয় বলে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে পায়ে হেঁটেই গাড়িতে উঠতে দেখা যায় ঘোড়াঘাটের সাবেক ইউএনও ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে।

গত ২ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা।

ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় ওয়াহিদাকে। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চার দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তর করা হয়।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াহিদা খানমকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। একই সঙ্গে রংপুরের পীরগঞ্জে ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকা তার স্বামী মো. মেজবাউল হোসেনকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।









Leave a reply