আধ-খাওয়া স্যান্ডউইচের হীরক জয়ন্তী!

|

আধ-খাওয়া স্যান্ডউইচের হীরক জয়ন্তী!

২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০। একটি স্যান্ডউইচে কামড় দিয়েছিলেন ৩৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন। সেই আধ-খাওয়া স্যান্ডউইচ যত্নে রেখে দিয়েছেন স্টিভ জেনি নামে এক ব্যক্তি। ছয় দশকের সেই বাসি স্যান্ডউইচের এবার হীরক জয়ন্তী। খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা।

রিচার্ড নিক্সন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ১৯৬৯ সালে। আর এই স্যান্ডউইচ ১০৬০ সালের। নিক্সন তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট। গিয়েছিলেন মার্কিন মুলুকের সুলিভান প্রদেশের একটি শহরে। সেখানে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেই স্কুলেই পড়তেন এঁটো খাবারের সংগ্রাহক স্টিভ জেনি। স্কুলের সেই অনুষ্ঠানে নানা রকম খাবার রান্না করা ও খাওয়া চলছিল। অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শেষে নিক্সন একটি ‘বাফেলো স্যান্ডউইচ’-এ কয়েক কামড় দিয়ে প্লেটে রেখে দেন। স্কুল পড়ুয়া জেনি সেই এঁটো স্যান্ডউইচটি চুপিচুপি বাড়িতে নিয়ে আসেন। তার পর থেকে সেটা তার সংগ্রহে থেকে যায়। ৬০ বছর পরে এবার স্যান্ডউইচটির হীরক জয়ন্তী।

জেনি তখন স্কুলের বয়েজ স্কাউটের সদস্য। তাদের দলের উপরেই ছিল ভাইস প্রেসিডেন্টকে খাবার দেওয়ার দায়িত্ব। সংবাদমাধ্যমকে জেনি জানান, এখনও তার মনে আছে সেদিন নিক্সন এই স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন, এটা খুবই টেস্টি।

জেনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, সবাই চলে যাওয়ার পরে দেখি প্লেটে নিক্সনের আধ-খাওয়া স্যান্ডউইচটা কাগজের প্লেটে রয়ে গিয়েছে। কেউ যখন নিচ্ছে না, তখন ঠিক করে নিই আমি ওটা বাড়ি নিয়ে যাব। স্যান্ডউইচটা নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সোজা বাড়ি চলে যান জেনি। মাকে গিয়ে জানান, এটির পিছনের সব কথা। মাও অবাক হয়ে যান। তার পরে মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করেই সেটিকে ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়। ৬০ বছর ধরে সেই ভাবেই ফ্রিজে রয়ে গিয়েছে স্যান্ডউইচটি। জেনির মা সেটিকে একটা প্লাস্টিকে মুড়ে সসের বোতলে ভরে রেখে দেন। চিরকাল আগলে রাখতে জেনি বোতলের গায়ে লেবেলে লিখে রাখেন, ‘সেভ, ডোন্ট থ্রো অ্যাওয়ে’।

১৯৮৮ সালে একটি টিভির অনুষ্ঠানে প্রথমবার স্যান্ডউইচটি প্রকাশ্যে আনেন জেনি। তখনই জানান, “যত দিন জীবিত থাকব, ততদিন এটা আমার কাছে থাকবে।” তবে শুধু নিক্সনের আধ-খাওয়া স্যান্ডউইচই নয়, মার্কিন অভিনেতা স্টিভ মার্টিনের এঁটো প্লেট রয়েছে তার কাছে। এছাড়াও বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন বিখ্যাত মানুষের আধ-খাওয়া খাবার রয়েছে স্টিভ জেনির সংগ্রহে।









Leave a reply