আদালতের আদেশে মায়ের কোলে ফিরলো শিশু

|

ভৈরব প্রতিনিধি:

আদালতের আদেশে তিন বছরের শিশু সামিয়া ১২ দিন পর তার মায়ের কোলে ফিরে এলো। স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে সামিয়াকে তার বাবা গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার টঙ্গীর বাসা থেকে চুরি করে ভৈরবে নিয়ে আসে।

সামিয়ার বাবার নাম স্বপন মিয়া এবং মায়ের নাম সাদিয়া বেগম। আদালতের আদেশে ভৈরব থানা পুলিশ গতকাল বুধবার রাতে শিশু সামিয়াকে ভৈরব উপজেলার ছোট রাজাকাটা গ্রাম থেকে উদ্ধার করে।

সামিয়ার বাবা স্বপনের বাড়ি ভৈরবের ওই গ্রামে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতের বিচারক সামিয়াকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দেন।

জানা গেছে, ৫ বছর আগে হবিগঞ্জ জেলার আজমীরিগঞ্জ উপজেলার কাকালছেও গ্রামের ইমামুল মিয়ার মেয়ে সাদিয়া বেগমের বিয়ে হয় ভৈরবের রাজাকাটা গ্রামের স্বপনের সাথে। সাদিয়া টঙ্গীতে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং তার স্বামী স্বপন পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তারা দুজন ঢাকার টঙ্গীতে একটি ভাড়া বাসায় থাকতো।

স্ত্রীর সাথে অন্য ছেলের পরকীয়া সন্দেহে স্বপন তাকে প্রায়ই মারধর করে বলে সাদিয়ার অভিযোগ। এই ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুজনের মধ্য ঝগড়া হয়। তারপর এদিন সন্ধ্যায় বাবা স্বপন তার মেয়ে সামিয়াকে টঙ্গীর বাসা থেকে চুরি (সাদিয়ার অভিযোগ চুরি) করে ভৈরব নিয়ে আসে।

এরপর স্বামী জানায় তাকে তালাক দেবে এবং সন্তান সামিয়াকে আর ফেরত দেবে না। পরে সন্তানকে ফিরে পেতে সাদিয়া বেগম গত সোমবার গাজীপুর আদালতে একটি মামলা করে।

মামলা করার পর আদালত পুলিশকে নির্দেশ দেন সামিয়াকে তার বাবার কাছ থেকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে। এই আদেশ কিশোরগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে গতকাল বুধবার ভৈরব থানায় পৌঁছে। পুলিশ আদালতের আদেশ পেয়ে বুধবার রাতেই সামিয়াকে তার বাবার কাছ থেকে উদ্ধার করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মা ও তার শিশু সামিয়াকে কিশোরগঞ্জ আদালতে চালান করা হয়। আদালতের বিচারক আজ দুপুরে শুনানি শেষে সামিয়াকে তার মায়ের জিম্মায় দেয়ার আদেশ প্রদান করেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, আদালতের আদেশে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। আজ আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।









Leave a reply