নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে এনআইডি নকল, অন্যের ২৫ কোটি টাকার জমি বিক্রি

|

কম্পিউটারের দোকানে বসে নয়, নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে নিয়েছে একটি চক্র। সেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দামের জমি। হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা আরও একশো কোটি টাকার সম্পত্তি। ঘটনাটি কুষ্টিয়ার।

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর মোড়। পাশেই দেড় বিঘার এই জমিটির দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকা। কিছুদিন আগে এটি বিক্রি হয় মাত্র ৭৭ লাখে। অথচ কিছুই জানতেন না জমির মালিক।

জমির উত্তরাধিকারী এম এম ওয়াদুদ জানান, আমরা এই জমি বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার মায়ের এনআইডি জাল করে ওই মহিলা জমি বিক্রি করেছে।

মোকসুদার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসন্ধান করে জানা যায়, জমি বিক্রি হওয়ার সময় দলিলে যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা মোকসুদা নামের আরেকটি পরিচয়পত্র। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে দেখা যায়, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যই সার্ভারে আছে। তাহলে, দুটি আসল হয় কীভাবে?

জমির ক্রেতা মহিবুলের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি জমি কার কাছ থেকে কিনেছেন, তখন তিনি বলেন, আমি মোকসুদার কাছ থেকে জমি কিনেছি। তার বাড়ি পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে।

পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মোকসুদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,
মোকসুদা নামের এই ব্যক্তিকে আমি চিনি না। আমার নয়টি গ্রামের কেউ এই মহিলাকে এখানে দেখেনি।

তদন্তে জানা যায়, কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার জরিনা খাতুন তার একটি পরিচয়পত্র থাকার পরও, ২০১৮ সালের হালনাগাদে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র বের করেন। জরিনা বনে যান মোকসুদা। তারপর জমি বিক্রি। এই জরিনাও মারা যান কিছু দিন আগে।

জরিনার ছেলে মিন্টু খন্দকারের (জালিয়াত চক্রের সদস্য) কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে দুইটি পরিচয়পত্র বানিয়েছেন, তখন মিন্টু বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে টাকা দিয়ে তিনি বানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, মো. সামিউল আলম জানান, বিশ হাজার লোকের ভোটার চেক করার কোনো সুযোগ নেই। এভাবে করতে হলে ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলার কথা। আমরা হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি সব তথ্য। বললো এজ ইউজাল এটা হয়ে গেছে।

ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, (ডিজি, এনআইডি উইং, ইসি) জানান, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয়পত্র বের হবার সুযোগ নেই। যখন মোকসুদার দুটি পরিচয়পত্র দেখানো হয় তখন তিনি বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি হতে পারে কারণ অনেক বয়স্ক ব্যক্তিদের হাতের রিচ লাইন অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু মোকসুদা নয়, তার পরিবারের ছয় জনের নাম ধারণ করে, প্রায় একশো কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করছে চক্রটি। তদন্তের পর, সেই ছয় পরিচয়পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

ইউএইচ/









Leave a reply