মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ ছাত্রীর মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে সোমবার এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে তারুয়া জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী (৩৫) এবং তার পিতাসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী দুমাস পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জে তারুয়া গ্রামে জামিয়া ছোবহানীয়া মহিলা মাদরাসাটি চালু করেন। মহিলা মাদরাসা হওয়া সত্ত্বেও তার সাথে
নিজে থাকার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন। মামলার বাদী নাছিমা বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ কন্যা খাদিজাতুল কোবরাকে (১৬) মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পরই ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। এর কয়েকদিন পরই ওই ছাত্রীর ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বিবাহিত এবং কয়েক সন্তানের জনক মাওলানা অলিউল্লাহ ছোবহানীর। নানা প্রলোভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে সে ছাত্রীকে। ভুল বুঝিয়ে মাদরাসা লাগোয়া থাকার ঘরে ডেকে নিয়ে হাত-পা টিপানো এবং শরীর ম্যাসাজ করতে বাধ্য করে ছাত্রীটিকে। তাকে এই
ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে ভয়ভীতিও দেখায় সে।

গত ৯ আগস্ট অধ্যক্ষ মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী মাদরাসা লাগোয়া থাকার ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ছাত্রীটিকে। এই ঘটনার পর ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করবে বলে জানালে মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী তাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। কয়েকটি ডায়েরির পাতায় বিয়ের কথাবার্তা লিখে তাতে ছাত্রীর স্বাক্ষর নেয় ছোবহানী।

এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার মো. আশরাফুর রহমান, সদর উপজেলার হাবলাউচ্চ গ্রামের মো. কেফায়েত উল্লাহ ও আশুগঞ্জ যাত্রাপুর গ্রামের মো. আবুল বাশার আইয়ুবীকে ওই বিয়ের উকিল ও সাক্ষী বানিয়ে ডায়েরির পাতায় তাদের স্বাক্ষর নিয়ে ছাত্রীকে বিয়ে হয়েছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। মামলায় এই ৩ উকিল-সাক্ষী এবং ঘটনা ধামা চাপা দিতে তৎপর মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানীর পিতা আব্দুল ছোবহানকেও আসামি করা হয়।

এই ব্যাপারে শরীফপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফ উদ্দিন চৌধুরী বুধবার সন্ধ্যায় জানান, মাওলানা অলিউল্লা ছোবহানী একাধিক স্ত্রী ও সন্তানাদি রয়েছে। এই ঘটনায় ধর্ষণ মামলা হওয়ার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইউএইস/









Leave a reply