বাড়ি ছাড়া হওয়ার ভয়ে হেঁটে হাসপাতালের পথে আক্রান্ত

|

করোনাভীতি কী ভাবে রোগের সঙ্গে লড়াইয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা আক্রান্ত এক কলেজ ছাত্রের অভিজ্ঞতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষায় যাদবপুর থানার উল্টো দিকের ফুটপাতে বসে থাকার পরে হাল ছেড়ে দিয়ে হেঁটেই এম আর বাঙুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। আর এই পরিস্থিতির জন্য ভাড়াবাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ভয়ই দায়ী বলে জানালেন আক্রান্তের বান্ধবী। খরব আনন্দবাজার পত্রিকার।

গত পাঁচ দিন ধরে জ্বর, গলা খুশখুশের উপসর্গে ভুগছেন ওই ছাত্র। বুধবার মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ দিন বিকেলে রিপোর্ট পজেটিভ এলে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। উপসর্গের মাত্রা শুনে আক্রান্তের ঠিকানায় অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানোর কথা বলে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু এলাকায় স্বাস্থ্য দফতরের অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকলে তাকে বাড়ির মালিক বের করে দেবেন, এই আতঙ্কে আক্রান্ত ছাত্র স্বাস্থ্য দফতরকে জানিয়ে দেন, অ্যাম্বুল্যান্স আসার প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই বাঙুরে চলে যাবেন।

এদিন সন্ধ্যার কিছু আগে গড়ফা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। কিন্তু লকডাউনের কারণে কোন গাড়ি না পেয়ে হেঁটে যাদবপুর থানা পর্যন্ত যান। সন্ধ্যা সাতটা থেকে ঘণ্টা তিনেকের বেশি সময় থানার কাছে বসেছিলেন! আক্রান্তের বান্ধবী জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সাড়ে ছ’হাজার টাকা চাইছিল। অত টাকা তাদের কাছে ছিল না। পুলিশকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেও লাভ হয়নি।
পরে ওসি স্বাস্থ্য দফতরের একজনের নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকবার ফোন করার পরও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা হয়নি বলে জানান তিনি।

আক্রান্তের বান্ধবীর দাবি, করোনা সন্দেহভাজন হওয়ায় আমাকে ভাড়াবাড়ি থেকে প্রায় বের করে দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমার বন্ধু সেই ঘটনার সাক্ষী। সে জন্যই ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে চায়নি।

চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য রোগ গোপনের প্রবণতা বাড়ছে। আর তা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হয়ে উঠছে।









Leave a reply