বিশাল কারাগারে একমাত্র বন্দি খালেদা জিয়া

|

৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ছোট ছেলেসহ গ্রেফতার হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর সাড়ে দশ বছর পর তাকে আবারও জেলে যেতে হলো। এবার দণ্ডিত আসামি হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ঠিকানা পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার।

ঢাকার এই পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের সব বন্দিকে ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে নেয়া হয়। তারপর থেকে সাত হাজার বন্দী ধারণক্ষমতার কারাগারটি ফাঁকা ছিল। সরকার ১৭ একরের এই জায়গায় জাদুঘর, বিনোদনকেন্দ্র ও উন্মুক্ত স্থান করার উদ্যোগ নেয়। খালেদা জিয়াকে সেখানে অন্তরীণ রাখায় পরিত্যক্ত কারাগারটি আবার সচল হলো।

সেনা সমর্থিত সরকারের সময় বড় ছেলে তারেক রহমান এই কারাগারেই বন্দি ছিলেন। সচল কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষে তার সাথে দেখা করতে আসতেন স্ত্রী জোবাইদা রহমান। এখন ওই কক্ষটিতেই বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন। সাবজেল ঘোষণা করা কক্ষটির তিন দিকের জানালা দিয়ে আলো বাতাসের সুবিধা রয়েছে। কারাবিধি অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ভিআইপি বন্দির মর্যাদা পাবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স মেজর (অব:) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে তার আলাদা একটা কক্ষ এবং আনুষাঙ্গিক সুবিধা তিনি পাবেন। তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সাধারণত পেপে এবং পেপের জুস পছন্দ করেন। তবে এবার খাবারের তালিকায় মাছ এবং গোশত, ব্রেড বাটার, চিনি, দুধ থাকবে।

এছাড়া এই কারাবাসের সময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ২৪ ঘন্টা একজন ডাক্তার থাকবেন। এমনকি বেগম জিয়ার খাওয়ার আগে খাবার টেস্ট করবেন ডাক্তার।

দেখভালের জন্য একজন ডেপুটি জেলার থাকবেন। একটি পুরানো ফ্রিজ দেয়া হয়েছে। পাশের রুমে গ্যাসের চুলায় রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দেশ-বিদেশের খবর জানতে খালেদা জিয়া ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ এবং অবজারভার পত্রিকা পাবেন। তবে টেলিভিশন দেখার সুযোগ থাকলেও শুধু বিটিভি দেখার সুযোগ পাবেন তিনি।

পরিত্যক্ত ঘোষণা করা কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র কয়েদি খালেদা জিয়া। এক সময় কয়েদির ভারে ভারাক্রান্ত কমপাউন্ডটি এখন শুনসান নিরব। নিরাপত্তায় রয়েছেন ২৫ কারারক্ষী। সাবজেলে রয়েছে ফ্রিজ, দেয়া হয়েছে টেলিভিশন। যেখানে শুধু বিটিভি দেখার সুযোগ। পত্রিকা থাকছে দৈনিক ইত্তেফাক, জনকন্ঠ ও ডেইলি অবজারভার। রান্নার দায়িত্বে থাকছে স্বল্পমেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এরইমধ্যে কয়েদি নম্বর দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। নিয়ম অনুযায়ী তোলা হয়েছে ছবি। নিরাপত্তার চাদরে মোড়া নাজিমুদ্দীন রোডের আশাপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যমুনা অনলাইন: আরএস/কিউএস

 









Leave a reply