সাহেদের কার্যালয় থেকে জাল টাকা উদ্ধার

|

রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

মহাপরিচালক জানান, ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করেন সাহেদ। এতে তাকে গ্রেফতার করতে দেরি হয়। সাহেদ বিভিন্ন স্থানে যেতে কখনও পায়ে হেঁটে কখনও ট্রাকে চড়ে স্থান পরিবর্তন করেন।

র‍্যাব সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ঢাকায় আনার পর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযানে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এক লাখ ৪৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাহেদ কখনও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনও গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।

এরআগে, রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, দালালদের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে পালানোর চেষ্টা করছে সাহেদ এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় র‍্যাব। সারারাত অভিযান শেষে সকাল ৫.১০ মিনিটে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় সাহেদর সাথে ৩ রাউন্ড গুলিসহ অবৈধ পিস্তল পাওয়া যায়।

র‍্যাব আরও জানায়, বোরকা পরে নৌকায় করে পালিয়ে যাচ্ছিল সাহেদ। নৌকায় উঠার আগে নদীর পাড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় সাহেদকে পারপার করা নৌকার মাঝি সাঁতরে পালিয়ে যায়। সাহেদ মোটা থাকার কারণে দৌড়ে পালাতে পারেনি বলে জানায় র‍্যাব। সাতক্ষীরায় সাহেদ ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিল। যাতে চিনতে না পারা যায় এজন্য চুলের রং সাদা থেকে কালো করে সাহেদ। গোঁফ কেটে ফেলেছিলো। তার পরিকল্পনা ছিলো মাথা ন্যাড়া করে ফেলা।

এদিকে সাহেদের গ্রেফতারের পর দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামবাসী আনন্দ মিছিল করেছে। এসময় এলাকাবাসী স্লোগান দেয়, চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। গ্রামবাসী সাহেদকে গ্রেফতার করায় র‍্যাবকে ধন্যবাদ জানায় তারা।

সাহেদকে গ্রেফতারের পর সকাল ৯টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর র‍্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরআগে করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে গত ৮ জুলাই মামলা করে র‌্যাব। উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়।

গত ৬ জুলাই সোমবার র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রিজেন্ট হাসপাতালের দুটো শাখায় (উত্তরা ও মিরপুর) অভিযান চালায়। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে শাখা দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। ৭ জুলাই বিকেলে উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।









Leave a reply