কমিটির সুপারিশ: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট নয়

|

পরীক্ষাগারের সংখ্যা নয়, সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। পাশাপাশি অ্যান্টিজেন বেজড কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি দিতে ঔষধ প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন কোরবানি ঈদে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পরামর্শ দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

এসব এলাকায় অনলাইনে পশু কেনাবেচার পরামর্শ দেয়া হয়। শুক্রবার কমিটির ১৪তম অনলাইন সভায় এই পরামর্শ দেয়া হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কমিটির সদস্যরা মনে করেন, কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার সময় কমানো প্রয়োজন। পরীক্ষার তথ্য দেরিতে পৌঁছালে আইসোলেশন ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। অ্যান্টিজেন বেজড কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতির জন্য ঔষধ প্রশাসনকে পরামর্শ দেয়ার কথা বলেন তারা। যাতে অতি সত্বর পরীক্ষার সুযোগ প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

এছাড়া বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রস্তুতের বিষয়টিকে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি স্বাগত জানিয়েছে। তবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার, বিএমআরসি ও ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরামর্শক কমিটি বলেছে, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধ জীবনযাত্রায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পরামর্শক কমিটি ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়। ঈদুল আজহাতে যেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার কথা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কমিটি ওই চার জেলা ছাড়া অন্যান্য জায়গায় সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা মেনে পশুর হাট বসানোর পরামর্শ দিয়েছে-
১. পশুর হাট শহরের অভ্যন্তরে স্থাপন না করা,
২. কোরবানি পশুর হাট খোলা ময়দানে হতে হবে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব
৩. বয়স্ক ব্যক্তি (৫০ বয়সোর্ধ্ব) এবং অসুস্থ ব্যক্তি পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত রাখা
৪. পশুর হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পৃথক রাস্তার ব্যবস্থা
৫. পশুর হাটে আসা সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা নিশ্চিত করা
৬. কোরবানি পশু জবাই বাড়িতে না করে নির্ধারিত স্থানে করা
৭. এছাড়া সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধ ঈদের ছুটিতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।









Leave a reply