শীত থেকে বাঁচতে আগুনের কাছে, দু’সপ্তাহে প্রাণ গেছে ২০ জনের

|

আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে রংপুর মেডিকেলে। এ নিয়ে দুই সপ্তাহে রংপুর মেডিকেলে প্রাণ গেছে ২০ জনের। পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন অর্ধশত মানুষ, যার বেশিরভাগই নারী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বছরের শুরুতেই বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা যেকোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

বার্ন ইউনিটের শয্যায় অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে দিনাজপুরের খানসামার গীতা রানী। কথা বলতে পারছেন না তিনি। স্বজন জানালেন, তীব্র শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহাতে গিয়েছিলেন গীতা। কাপড়ের কোণায় আগুন ধরে যাওয়ার পর টের পেলেও অল্পক্ষণের মধ্যে পুড়ে যায় শরীরের একাংশ।

গীতার পাশের বেডেই কাতরাচ্ছে ৫ বছর বয়সী পঞ্চগড়ের জান্নাতী বেগম। গঙ্গাচড়ার ৩ বছরের শিশু রিপা মনিও ভর্তি একই ইউনিটে। সবাই শীত ও আগুনের শিকার।

বার্ন ইউনিট ছাড়াও জেনারেল সার্জারি ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ডসহ আইসিইউতে অগ্নিদগ্ধ ৫৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের মধ্যে সন্তানসম্ভবা অথবা সদ্য মা হয়েছেন এমন নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানালেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

দুর্ঘটনার জন্য অসচেতনতাকেই দায়ি করছেন অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞরা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রংপুর অংশের সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলী বলেন, শীতের সময় শরীরে অতিরিক্ত কাপড় থাকে। এসময় কোনোভাবে আগুন ধরে গেলে সব কাপড় খুলতে সময় লাগে। অথবা কখনো খোলার আগেই শরীরে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৪ জন রোগী।









Leave a reply