লক্ষ্মীপুরে মেঘনার জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত

|

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ এর প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় তিন ফুট পানির নীচে ডুবে গেছে ফসলী মাঠ ও বাড়ি ঘর।

বুধবার দুপুর পর থেকে মেঘনায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। এতে ৩৭ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে চার কিলোমিটার এলাকায় থাকা নদীর তীর রক্ষা বাঁধও এখন অরক্ষিত। মেঘনার তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে যেকোন সময় বাঁধে ধ্বস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। উপকূলীয় অন্যান্য জেলার সঙ্গে লক্ষ্মীপুরেও ১০ নম্বার মহাবিপদ সংকেত দেখানো হচ্ছে।

দুপুর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে মেঘনা। কিন্তু দেখা গেছে, রামগতির কমরনগর নদীতে শতাধিক নৌকায় জেলেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু জেলদেরকে উঠিয়ে আনতে প্রশাসন কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কাউকেই নদী এলাকায় দেখা যায়নি।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদর থেকে কমলনগর হয়ে রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন কবলিত। এরমধ্যে চার কিলোমিটার এলাকা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ রয়েছে। তবে বাঁধের দুই পাশেই খালি। এজন্য মেঘনার তীব্র স্রোত ও ঢেউ দুই পাশ থেকে বাঁধে আঘাত করছে। এতে উপকূলের অঞ্চলসহ বাঁধটিও হুমকিতে রয়েছে। যেকোন সময় বাঁধে ধ্বস নামতে পারে।

কমলনগর উপজেরায় ফসলী ক্ষেতের পাশাপাশি ১২ টি ইউনিয়েনের বসতবাড়িতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র নেয়ার বিষয়ে কোন ব্যবস্থা করা হয় নি।

জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগ জানায়, কিছু এলাকায় বাঁধ রয়েছে সেসব স্থানে তেমন কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে যেসব স্থানে বাঁধ নেই, সেসব স্থান খুব ঝুঁকিতে রয়েছে। এরমধ্যে মেঘনার লুধুয়া, চরফলকন, মতিরহাট, কালকিনিসহ কয়েকটি এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে আছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, মেঘনায় পানির উচ্চতা কতটুকু বেড়েছে তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি। আম্পান আঘাত করলে এটি নির্ণয় করা হবে। এখনো স্বাভাবিক জোয়ার চলছে। তবে উপকূল রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









Leave a reply