শিল্প মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে নাকচ হলো তামাকজাত পণ্য বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব

|

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলেছে। এ প্রেক্ষিতেই বিড়ি-সিগারেটসহ সব ধরণের তামাক পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ ও ক্রয়-বিক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু ১৮ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই প্রস্তাবের বিষয়ে বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় ‘বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করে’ তামাকজাত পণ্যের বিক্রি বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। পাল্টা চিঠিতে শিল্প মন্ত্রণালয় লিখেছে, এটা এখন বন্ধ করা এখন সমীচীন হবে না।

বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। যেখানে, তামাককে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এমনিতেই বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতি যথেষ্ট চাপে রয়েছে। আগামী দিনে অনিবার্যভাবে এই চাপ বাড়বে। ফলে এই পরিস্থিতিতে কোন শিল্প বন্ধ করার মত আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হুট করে এই শিল্প বন্ধ করে দেয়া হলে দেশ বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে, অন্যদিকে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। আবার তামাক পাতা না কিনলে প্রান্তিক চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানানো হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, ধূমপান কিংবা তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর- এটা জেনে-শোনেই সবাই সেবন করে। এখন যদি বৈধভাবে উৎপাদন-বিপণন বন্ধ করে দেয়া হয়, তার মানে এই নয় যে ধূমপায়ীরা ধূমপান করবে না। তখন কালোবাজারিরা উৎসাহিত হবে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে। সামগ্রিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ শিল্প চালু রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে। পাশাপাশি ধূমপান ও তামাক জাতীয় পণ্য সেবনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে ।









Leave a reply