চীন করোনায় দোষী হলে এইডসের দায় যুক্তরাষ্ট্রের

|

চীন করোনাভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র এইডস বা স্প্যানিশ ফ্লু ছড়ানোয় অভিযুক্ত হবে। চীনের দুটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্প্রতি একটি নিবন্ধে এ হুশিয়ারি দিয়েছে। এইচআইভি এইডস মহামারীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দোষী করে দায়ী আন্তর্জাতিক মামলা দায়েরের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে পত্রিকা দুটি। গ্লোবাল টাইমস এবং পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট এবং ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লু মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ায়ও যুক্তরাষ্ট্র দোষী।

করোনাভাইরাসের কারণে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের মামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও অনুরূপ মামলার হুমকি দিয়ে আসছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ইংরেজি ভাষার এ পত্রিকা দুটি।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি রাজ্য মিসৌরি এবং মিসিসিপি দেশটির আদালতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, চীনের উহান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও দেশটি তা অড়াল করার চেষ্টা করেছিল। জানুয়ারিতে করোনা প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে চীনের কর্মকর্তারা সংক্রামক রোগের বিষয় লুকিয়ে রাখতে চিকিৎসক এবং অন্যদের গ্রেফতার করেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, ভাইরাসটি মানুষ থেকে অন্য মানুষে সংক্রমণযোগ্য নয়। চীনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দিতে অন্যান্য দেশগুলোকে চাপও দিয়েছিল বেইজিং। এগুলো মহামারী তীব্রতর হওয়ায় সরাসরি অবদান রেখেছে। কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের জবাবে গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, করোনাভাইরাস সম্পর্কিত যে কোনো বিশ্বব্যাপী সমস্যায় ‘চীনকে কখনও দোষ দেয়া যায় না’। বরং এটি ‘কিছু আমেরিকান রাজনীতিবিদদের অহংকার’কে মানবতার দুর্ভোগের আসল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বেশ কয়েকটি আমেরিকান রাজ্য কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পিপলিস ডেইলির কর্মকর্তাদের পক্ষে ঝং শেং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও মামলার হুমকি দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, কিছু আমেরিকান রাজনীতিবিদদের যুক্তি মেনে নিলে যুক্তরাষ্ট্রকে স্প্যানিশ ফ্লু, ১৯৮০-এর দশকে ছড়িয়ে পড়া এইডসসহ অন্যান্য মহামারী এবং ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট তৈরির জন্য বিশ্ব সমাজকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকট বহু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পতিত করেছিল।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে, এতে লাখ লাখ নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটি অসংখ্য সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। এসব দোষেও যুক্তরাষ্ট্রকে মামলার জালে ফাঁসানো যাবে। প্রত্যেক রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। কিন্তু একক কোনো ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করতে পারেন না। তবে সার্বভৌম প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। মার্কিন কংগ্রেস ২০১৬ সালে একটি আইন পাস করেছে, যেখানে মার্কিনিরা ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের জঙ্গি হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতির জন্য সৌদি আরব সরকারের বিরুদ্ধে অদালতে মামলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।









Leave a reply