করোনা পরীক্ষা কিটের নাম ‘ফেলুদা’

|

দারুণ সব রহস্য উন্মোচনে জুড়ি নেই, বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার। সত্যজিত রায়ের কালজয়ী এই সৃষ্টি এবার সনাক্ত করবে করোনা ভাইরাস। তবে, গোয়েন্দা ফেলুদা ফিরছেন না; নমুনা পরীক্ষার কিটের নামই রাখা হয়েছে ফেলুদা। দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর তৈরি এ কিট মাত্র ৩০ মিনিটে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেবে।

গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে ভারতে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার। কিন্তু, জনসংখ্যার তুলনায়, নমুনা পরীক্ষার হার অনেক কম। ১৩৫ কোটি মানুষের দেশে, টেস্ট হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। যার বড় কারণ গবেষণাগারের অবকাঠামো ও কিট স্বল্পতা।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা চলছে পিসিআর পদ্ধতিতে। তবে, দিল্লির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইআর-এর দুই বাঙালি বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন, পেপার বেজড টেস্ট স্ট্রিপ কিট। এ র‍্যাপিড কিটে, সময় ও খরচ-দুটোই কম লাগবে। ফলাফলও আসবে নিখুত। সত্যজিত রায়ের বিখ্যাত সৃষ্টি ফেলুদার নামে এ কিটের নাম রেখেছেন, উদ্ভাবকরা।

সিএসআইআর’র মহা পরিচালক শেখর মান্ডে বলেন, এটা অনেকটা প্রেগন্যান্সি কিটের মতোই। কোন জটিল প্রযুক্তি বা ভারী মেশিনের দরকার নেই। শুধুমাত্র রংয়ের পরিবর্তন দেখেই বলা যাবে করোনা আক্রান্ত কিনা।

প্রচলিত টেস্টে, খরচ সাড়ে চার হাজার রুপি। সেখানে ফেলুদা কিটের খরচ মাত্র ৫০০ টাকা। পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগবে, মাত্র ৩০ মিনিট। সবমিলিয়ে, ভারতে, করোনা পরীক্ষার চিত্র পাল্টে দিতে পারে ফেলুদা কিট।

শেখর মান্ডে বলেন, প্রচলিত কিটের চেয়ে অন্তত তিন-পাঁচ গুণ কম খরচে পরীক্ষা করা যাবে এই কিটে। আর প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলও খুবই ইতিবাচক। কম সময়ে অনেক বেশি সংক্রমণ পরীক্ষা করা যাবে। যা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য বেশি দরকার।

বাণিজ্যিকভাবে ফেলুদা কিট উৎপাদনের জন্য, টাটা সন্সের সাথে চুক্তি করেছে সিএসআইআর। এ মাসের মধ্যেই, ভারতজুড়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য, কিট সরবরাহের আশা তাদের।









Leave a reply