জানাজায় লোক সমাগম, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা যুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার ঘটনায় গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রোববার সকালে নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সদর দফতরের নির্দেশনা ছিল, পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি সংক্রান্ত কতগুলো সুনির্দিষ্ট বিষয় খতিয়ে দেখার। আমরা সেগুলোই উদঘাটনের চেষ্টা করেছি। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রিপোর্টে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেদনে কি বলা হয়েছে এই ব্যাপারে তদন্ত কমিটি কেউ কিছু জানাননি ।

তবে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে এই জানাজা নামাজে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য সরাইল থানা পুলিশের নিষ্কিৃয়তাকে দায়ি করা হয়েছে। সরাইল থানা সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটুর দায়িত্বহীনতার বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই তৎকালীন সার্কেল এএসপি মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হলেও কর্মস্থলে তিনি নতুন বিধায় তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের জেলা বিশেষ শাখাসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মার্কাসপাড়ার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন মাওলানা যুবায়ের আহমেদ আনসারী। পরবর্তীতে বেড়তলা গ্রামের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে।

এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রধান করা হয় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেনকে। বাকি দুই সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) পঙ্কজ কুমার দে। এই কমিটিকে ৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়ে ছিল। কিন্তু যথা সময়ে তারা প্রতিবেদন দিতে পারেনি।









Leave a reply