করোনা আক্রান্তদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসলো তাবলীগ জামাত

|

তাবলীগ জামাতে যোগ দেওয়ার পরে দিল্লিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে অনেকে এমন খবর বেশ শোরগোল ফেলে। তাদের একাংশ সুস্থ হয়ে ওঠার পরে এগিয়ে এসেছেন নিজের রক্ত দান করতে। সুস্থদের রক্ত থেকে প্লাজমা নিষ্কাশন করে তা দেওয়া হবে করোনা সংক্রমিত রোগীদের শরীরে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় প্লাজমা প্রয়োগ করে গত সপ্তাহেই নাকি সাফল্যর দেখা পেয়েছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। তারপরেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা সুস্থ তাবলীগ সদস্যরা প্লাজমা দিতে এগিয়ে আসছেন।

তবে কিছুদিন আগেও সারা দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য তাদেরই দায়ী করা হচ্ছিল। করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর দেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেই অ্যান্টিবডি রক্তের প্লাজমা ট্রান্সফিউশনের মাধ্যমে সুস্থ মানুষের দেহে ঢুকিয়ে তাদের চিকিৎসা করা হচ্ছে ভারতে।

তামিলনাডুর দিন্ডিগালের যুবক আনাস সৈয়দ এমনই একজন ব্যক্তি যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দারুল উলুম দেওবন্দের এই ছাত্র পরীক্ষা শেষে ছুটিতে বাড়ি যেতে পারেননি। হঠাৎই শুরু হয়ে যায় লকডাউন। নিজামুদ্দিন মারকাজেই থেকে যেতে হয় আনাস সৈয়দকে। এরপরে তার শরীরে ধরা পড়ে করোনা সংক্রমণ। আইসোলেশনে ২১ দিন থাকার পরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। লালারস পরীক্ষা দুবার নেগেটিভ এসেছে।

কয়েকদিন আগে চিকিৎসকরা প্লাজমা দান করার প্রস্তাব দেন। তারা বলেন যে অন্য রোগীদের সুস্থ করে তোলা যাবে প্লাজমা দিয়ে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অন্য তাবলীগ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে গত রবিবার তার এবং আরও কয়েকজনের রক্ত নেয়া হয়- যা থেকে প্লাজমা পৃথক করা হয়। করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য তাবলীগ সদস্যদের যে বদনাম করা হচ্ছিল, এখন আনাস সৈয়দের মনে হচ্ছে প্লাজমা দান করার মাধ্যমে আল্লাহ সেই বদনাম দূর করে দিলেন। তবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ প্লাজমা চিকিৎসা নিয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি।









Leave a reply