গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে জটিলতা; পরীক্ষার খরচ দিতে চায় সুচিন্তা

|

গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে জটিলতা;পরীক্ষার খরচ দিতে চায় সুচিন্তা

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষার খরচ দিতে চায় সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

তোয়াহা ফারুক:

করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ কিট নিয়ে জটিলতা যেন থামছেই না। বিশেষ করে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর ও গণস্বাস্থ্যের পাল্টাপাল্টি প্রেস ব্রিফিং ও বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। গণস্বাস্থ্যের দাবি কিট প্রস্তুত, পরীক্ষা করে অতিসত্বর অনুমোদন দেয়া হোক। কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে সেটি জানানো হোক। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কথা, নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ইভালুয়েশন করাতে হবে। আর সেটি করতে হবে লিস্টেড কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিআরও) মাধ্যমে। এই জায়গাতেই আপত্তি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। তার কথা, এসব সিআরও হচ্ছে ‘ফড়িয়া’। জটিলতা নিরসনে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত। জানিয়েছেন, সিআরও’র সকল খরচ সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে জোগাড় করে দিতে চান তারা। তবু এ নিয়ে জলঘোলা করা বন্ধ হোক।

মোহাম্মদ এ আরাফাত যমুনা নিউজকে বলেন, র‍্যাপিড টেস্টিং কিটের ফলাফলে অনেক ত্রুটি থাকে বলে এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত নয়। স্বভাবতই, আইইডিসিআরও এমন টেস্টে আস্থা রাখতে চাইছে না। তবে গণস্বাস্থ্যের দাবি ওনাদের কিটে অ্যান্টিবডির পাশাপাশি অ্যান্টিজেন টেস্টও করা হয় এবং এটি করোনার পিসিআর পরীক্ষার মতো নির্ভুল ফলাফল দেয়। এমন যদি হয়ে থাকে তাহলে তো, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। আমরা চাই এটা নিয়ে বিতর্ক বন্ধ হোক। এখন অহেতুক বিতর্কের সময় না। সেজন্য আমরা এগিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিআরও) মাধম্যে ইভ্যালুয়েশন করাতে হয়। এর খরচ বহন করতে হয় উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠানকে। এটাই নিয়ম। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর সেই নিয়মের কথাই বলেছে। তাদের সাথেও কথা হয়েছে ওনারা সার্বিক সহযোগিতা করতে রাজি আছেন।

ডা. জাফরুল্লাহর সাথে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই গবেষণামূলক কাজগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। তাদের গবেষণা ও মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তারা আবার লিস্টেড সিআরও। এক্ষেত্রে যদি গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবনটি আইসিডিডিআরবিতে মূল্যায়ন ও ট্রায়াল করা হয় এবং ভালো ফল আসে সেটি দেশের মানুষেরই উপকারে আসবে। আমি ওনাকে বলেছি আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে ইভ্যালুয়েশন করিয়ে আনেন। ঝগড়া করে তো লাভ নেই। আপনি মূল কাজটা করেন। খরচ ইস্যু হলে আমরা সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে তুলে দিবো।
আইসিডিডিআরবি আংশিক লকডাউন হলেও তাদের ল্যাব ওপেন। এটা নিয়ে তো আপনার অবজেকশন নাই। উনি রাজি হয়েছিলেন। আমরা সমাধান চাই, অহেতুক বিতর্ক কারো উপকারে আসছে না। সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক।

এদিকে, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন বিষয়টি নীতির প্রশ্ন, তৃতীয় বিশ্বের ঔষধ শিল্পের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। তিনি কোনো প্রকার সিআরও’র হস্তক্ষেপ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কিটের ইভ্যালুয়েশন করাতে চান। বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানকে সিআরও করা হয়েছে তার অধিকাংশ ভুঁইফোঁড়। তারা মূলত বাজেটের নামে আর্থিক লেনদেন করে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সিআরও প্রথা বন্ধ করা। অথবা যদি রাখতেই হয় তাহলে ভালো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চার্জ নির্ধারণ করে দিয়ে সেটা করা।

বিএসএমএমইউ ও ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান ডা. জাফরুল্লাহ। মোহাম্মদ এ আরাফাতের প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি মনে করি সে একটা গুড ইনটেনশন থেকে এগিয়ে এসেছে। আমার সাথে কথাও বলেছে, তাকে সাধুবাদ জানাই। আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে সরাসরি করাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টা নীতির প্রশ্ন, সিআরও থাকা লাগবে কেনো? আমি সিআরও প্রথা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কিটের গবেষক দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলে চান দ্রুততম সময়ে ট্রায়াল সম্পন্ন হোক এবং সেটি অ্যাকাডেমিকভাবেই হোক; ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের কথা, তারা আন্তরিক তবে প্রচলিত নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অনেক গবেষক আবার এমন কিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিটের কার্যকারিতা দাবি করে নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়ন করাতে চাইছেন, কিন্তু কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা সিআরও নিয়ে তার প্রবল আপত্তি, বিষয়টিকে নীতির লড়াই হিসেবে দেখছেন তিনি। আর মোহাম্মদ এ আরাফাতের বক্তব্য, বিষয়টা নিয়ে কথার লড়াই থামুক। কিট ইভালুয়েশন হোক; সফল হলে, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ; না হলেও ‘ধন্যবাদ’।









Leave a reply