শিশু খাদ্যের টাকা বিতরণ না করেই কাগজে কলমে সম্পন্ন দেখালেন ইউএনও

|

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসাবে শিশু খাদ্যের নগদ অর্থ (খাদ্য) বিতরণ না করে সোয়া লাখ টাকা ভুয়া তালিকা দেখিয়ে কাগজে কলমে সম্পন্ন করেছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতী।

এমনকি সদর উপজেলায় ২০০টি পরিবারের মধ্যে ২০০ জন উপকারভোগী দেখিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি। অথচ বাস্তবে একজন লোকও নগদ অর্থ বা শিশু খাদ্য সামগ্রী পাননি। এমনকি যে দুইশ’ জনের কথা চিঠিতে বলা হয়েছে তার তালিকা পর্যন্ত নাই ওই দপ্তরে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিক বিতরণের নির্দেশ দেয়া সত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে কোন তালিকাও প্রস্তুত করা হয়নি অথচ কাগজে কলমে সব টাকা বিতরণ সম্পন্ন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ও ১৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা) দুটি স্মারকে জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৬ লাখ টাকা শিশু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দুই দফায় ৫০ হাজার এবং ৫১ হাজার দুইশ বিশ টাকা অর্থাৎ ১ লাখ ১ হাজার দুই’শ বিশ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যার চেক নম্বর যথাক্রমে ৩৬৬৯২০৩ এবং ৩৬৬৯২২০।

কিন্তু সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতী ওই অর্থ হতদরিদ্র কিংবা শিশুর অভিভাবকদের মধ্যে বিতরণ না করেই কাগজে কলমে বিতরণ দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

গত ১৮ এপ্রিল তারিখে তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উল্লেখ করেছেন যে, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ অর্থ বিবরণীতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ১ হাজার ২২০ টাকা। এরমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে সম্পূর্ণ টাকাই। ২০০টি পরিবার উপকারভোগীর তালিকায় দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওই দুই’শ পরিবারের কোন তালিকা নির্বাহী অফিসারের কাছে নেই।

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে শিশু খাদ্য বিতরণের অনুকূলে উপকারভোগীর তালিকা চাওয়া হলে তিনি সদর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এর কাছ থেকে ওই তালিকা সংগ্রহের পরামর্শ দেন। পরে সদর উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)র কাছে উক্ত তালিকা চাওয়া হলে তিনি কোন প্রকার তালিকা দেখাতে পারেননি। অথচ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ১৮ এপ্রিল শিশু খাদ্য বিতরণ দেখানো হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ২১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিশু খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমের যে বিবরণ দেখিয়েছে তাতে সদর উপজেলার ওই হিসাবও সম্পন্ন দেখিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ‘খাদ্য বিতরণ না করে ভুয়া তথ্য দেয়ার সুযোগ নেই। যদি এরকম করা হয় তা হলে খতিয়ে দেখা হবে। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি এবং এডিসিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলছি।’









Leave a reply