দেশে প্রতি ১০ লাখে ৮০ জনের করোনা পরীক্ষা

|

দেশে সামাজিক সংক্রমণের মাধ্যমে দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু একই হারে পরীক্ষার মাধ্যমে আক্রান্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে না। এমনকি যে ১৯টি ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে, সেগুলোর সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে গড়ে ৮০ জনের কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের পরীক্ষা হচ্ছে।

এটা সর্বনিম্ন। আর সর্বোচ্চ ইতালিতে, তারা প্রতি ১০ লাখে ১৭ হাজার ৭৫৮ জনের পরীক্ষা করছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে কম এর কারণ পরীক্ষা এবং নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতিতে দুর্বলতা আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখে ৮০ জনের করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা হচ্ছে মালদ্বীপে। দেশটিতে প্রতি ১০ লাখে পাঁচ হাজার ৩৬৩ জনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৭ মার্চ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগী ২১ জন।

ভুটানে প্রতি ১০ লাখে এক হাজার ৫১১, পাকিস্তানে ৩৩২, শ্রীলঙ্কায় ২২৩, নেপালে ২১৬ এবং ভারতে ১৭৭ জনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালিতে প্রতি ১০ লাখে ১৭ হাজার ৭৫৮, জার্মানিতে ১৫ হাজার ৭৩০, স্পেনে ১২ হাজার ৮৩৩, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ হাজার ৩৬৭ এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে ১০ হাজার ৪২৬ জনের করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীতে ১০টি বিভাগে ৯টিসহ মোট ১৯টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চলছে। এসব ল্যাবে প্রায় ৩০টির মতো পিসিআর মেশিন রয়েছে। এই মেশিনগুলো দিনে দুই শিফট ব্যবহার করলে দৈনিক সাড়ে পাঁচ হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু পরিকল্পনা, নমুনা সংগ্রহ এবং ল্যাব বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কারণে সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৯৪৮ জন। প্রথম রোগী শনাক্তের পর এ পর্যন্ত এই সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরীক্ষা আরও বাড়বে, আমরা সেই চেষ্টা করছি। অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২০টি ল্যাবে পরীক্ষা চালু হয়েছে। আরও ৮টি ল্যাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২৮টি ল্যাব নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও ৩০টি ল্যাবের তালিকা করা হয়েছে। এগুলো ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি পরীক্ষা করতে উপজেলা পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহের উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ল্যাব পরিচালনায় দেশে বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।









Leave a reply