করোনা: বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দেড়লাখ ছাড়ালো

|

ধারণার চেয়েও দ্রুত বিস্তার করছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। কোভিড নাইন্টিনের প্রকোপে প্রাণহানি ৫০ হাজারের ঘর ছাড়াতে সময় নেয় এক মাস। অথচ পরবর্তী দুই সপ্তাহেই এ সংখ্যা তিনগুণ বেড়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লাখ। আক্রান্ত হবার পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। প্রথম এক লাখ রোগী আক্রান্ত হতে সময় লাগে তিন মাস। আর এর ২০ গুণ বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন পরের এক মাসে।

ঠিক তিন মাস আগে যখন করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এতটা ভয়াবহ হবে পরিস্থিতি। মৃতের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে লেগেছিলো দেড় মাস। ভাইরাসের অপ্রতিরোধ্য গতিতে পরের দেড় মাসেই এক লাখ ছাড়িয়েছে প্রাণহানি। অনেকটা নাজেহাল হয়ে পড়া বিশ্ববাসীর এখন অসহায় প্রশ্ন, কত প্রাণ নিয়ে থামবে করোনা।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারে অসহায় গোটা পৃথিবী। বিশ্বের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে নেই ভাইরাসটির প্রকোপ। প্রতি মুহুর্তে লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানি আর আক্রান্তের সংখ্যা।

গেল ডিসেম্বরে ভাইরাসটির প্রকোপ শুরুর পর তিন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখে পৌঁছায়, ৬ মার্চ। পরের ২০ দিনে এ সংখ্যা বেড়ে যায় ৫ গুণ। এরপর প্রতি সপ্তাহেই গড়ে ৫ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয় বিশ্বজুড়ে।

দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মৃত্যু হয় এক হাজার জনের, পরবর্তী ৩ সপ্তাহে এ সংখ্যা বাড়ে প্রায় ৫০ গুণ। এখন তো সপ্তাহে গড়ে ৫০ হাজার মানুষের জীবন কাড়ছে করোনাভাইরাস।

কোভিড নাইন্টিনের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী রূপ দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃতের সংখ্যা প্রথম ১০ হাজার ছাড়াতে এক মাস সময় নিলেও, তা দ্বিগুণ হয় মাত্র ৫ দিনে। আর ২০ থেকে ৩২ হাজারের কোঠা ছাড়াতে সময় নেয় ৪ দিনেরও কম।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ইতালির। ২১ ফেব্রুয়ারি ১ম প্রাণহানি দেখে দেশটি। পরের মাত্র তিন সপ্তাহে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার। তা ৫ হাজারে পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ১০ দিন। তারপর প্রতি সপ্তাহেই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।

ভাইরাসটি দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে সক্ষম, তাই যে কোনো মুহুর্তেই যে কোনো দেশে ব্যাপক হারে বাড়তে পারে প্রাণহানি আর আক্রান্তের হার।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply