চিড়িয়াখানায় দুই সপ্তাহে দুই জিরাফ ছানার জন্ম

|

জাতীয় চিড়িয়াখানার চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যে চিড়িয়াখানা ঘিরে লোকে লোকারণ্য ছিল, সেখানে এখন পশুপাখিদের ডাক-শব্দ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০ মার্চ থেকে চিড়িয়াখানাটি বন্ধ রয়েছে। দর্শনার্থী প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। শুধু নির্ধারিত লোকজন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারছে না। চিড়িয়াখানা রোডসহ এর আশপাশে কোনো মানুষ-যানবাহনের শব্দও নেই। কর্তৃপক্ষ বলছেন, নিরিবিলি পরিবেশে চিড়িয়াখানার পশুপাখি যেন সজীব হয়ে উঠছে। আপন মনে, স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করছে পশুপাখিগুলো। মনের আনন্দে ডাকছে, শব্দ করছে। দর্শনার্থী না থাকায় ভেতরের পশুপাখির সঙ্গে দলে দলে যোগ দিচ্ছে বাইরে থেকে আসা নানা ধরনের পাখি। যেন ভেতরের পাখি আর বাইরে থেকে আসা পাখি একাকার। এমন অবস্থায় ২৫ মার্চ ও ১১ মার্চ দুটি জিরাফ দুটি বাচ্চা দিয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই দুটি গন্ডার বাচ্চা দেবে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছেন, দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ থাকলেও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় তারা রয়েছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্কের ব্রস্কস চিড়িয়াখানায় চার বছর বয়সী একটি বাঘিনীর শরীরে হানা দিয়েছে কোভিড-১৯ ভাইরাস। এমন সংবাদে কলকাতায় ১৭ মার্চ সব চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম রোববার সন্ধ্যায় জানান, কঠিন এ সময়ে প্রাণী তথা মানুষের জীবন রক্ষায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরাও সর্বদা খোঁজ রাখছি। পশুপাখিদের খাবার খাওয়ানো ও সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুটি জিরাফ দুটি বাচ্চা দিয়েছে। এটি আনন্দের সংবাদ। ভেতরের পরিবেশ নিরিবিলি পেয়ে পশুপাখিরা আনন্দ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানা খুলে দেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ১০টি জিরাফ রয়েছে। যার মধ্যে নতুন অতিথি হিসেবে দুটি জিরাফ জন্ম নিয়েছে ২৫ মার্চ এবং ১১ এপ্রিল। জিরাফ ছানা দুটি সুস্থ রয়েছে। সুস্থ আছে তাদের মা। ২৫ মার্চ দুপুর এবং ১১ এপ্রিল বেলা ১১টায় ছানা দুটি জন্ম নেয়।

তাদের জন্মে কর্তৃপক্ষ যেমন খুশি তেমনি সব কয়টি জিরাফও আনন্দ করছে। ছানার সঙ্গে খেলা করছে বড় জিরাফগুলোও। এ চিড়িয়াখানায় মোট ১০টি জিরাফ ছানা জন্ম নিয়েছে। বর্তমানে গন্ডার রয়েছে ১৬টি। যার মধ্যে আগামী কিছু দিনের মধ্যে দুটি গন্ডার বাচ্চা দেবে। উটপাখি রয়েছে ১০টি। ৯টি বাঘ, ৩০০টি হরিণ, ১০০টি বানর, ছয়টি সিংহ, পাঁচটি জেব্রা রয়েছে। সর্বমোট ১৩৭ প্রকারের ২৭৭৮টি প্রাণী, পাখি ও মৎস্য রয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা বেবী জানান, ২০ মার্চ থেকে চিড়িয়াখানা বন্ধ রয়েছে। চিড়িয়াখানাটি ঘিরে প্রতিদিন শত শত লোক আসা যাওয়া করত। সড়কগুলোতে সবসময় যানজট লেগে থাকত। এখন সড়কের পাশে সারি সারি বাস-বিভিন্ন যান দাঁড়ানো। কোনো মানুষের কোলাহল নেই।

জানা যায়, চিড়িয়াখানায় কর্তব্যরত সবাই মাক্স এবং পশুপাখিদের যারা খাবার বিতরণ করবেন তাদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই খাবার দিচ্ছেন। পাশাপাশি চিড়িয়াখানায় যে ডাক্তার পশুদের দেখভালে আছেন, তারা পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করছেন। পশুপাখিদের সুরক্ষিত রাখার জন্য অ্যান্টি-ভাইরাস সলিউশন স্প্রে করা হচ্ছে। পশুপাখিদের যে খাবার দেয়া হচ্ছে, তা জীবাণুমুক্ত কিনা পরীক্ষা করে তবেই দেয়া হচ্ছে। বিড়াল জাতীয় প্রাণী কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি- বলছেন প্রাণীবিদরা। সম্প্রতি বিড়াল ও বাঘ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী প্রাণী সুরক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এদিকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে পোষা ও বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছে ইউএসডিএ।

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নূরুল ইসলাম রোববার বিকালে জানান, নিউইয়র্কে একটি বাঘে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আছি। লোকাল মার্কেট থেকে মাংস কেনা হচ্ছে। সাভার ও সিঙ্গাইর থেকে ঘাস আনা হচ্ছে। জীবাণুমুক্ত করে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। জুন-জুলাই মাসে গন্ডার, কেঙ্গারু, লামাসহ অন্তত ১৫টি প্রাণী কেনা হবে। উটপাখি ৫টি ডিম দিয়েছে। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখন চিড়িয়াখানাজুড়ে পশুপাখির কলকাকলী শোনা যায়। একই সঙ্গে প্রতিদিনই দলে দলে বাইরে থেকে নানা ধরনের পাখি আসছে। ভেতরের পাখির সঙ্গে একাকার হচ্ছে বাইরে থেকে আসা পাখি। মানুষের শব্দ নেই, আনন্দে মেতে উঠছে পশুপাখিরা। এ যেন এক অন্যরকম পরিবেশ।









Leave a reply