ঢাকার ৬১ এলাকায় করোনার সংক্রমণ

|

দেশে করোনাভাইরাসে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। সব মিলে এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ এবং মারা গেছে মোট ২৭ জন।

শেষ তিন দিনে প্রায় দ্বিগুণ হারে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯৪ জন। এদিন মৃত্যু হয় ৬ জনের। বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছে ১১২ জন। গত এক মাসে এটা সর্বোচ্চ। মারা গেছেন একজন। তবে গত দুদিনে নতুন করে কারও সুস্থ হওয়ার খবর আসেনি। ফলে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যা সেই ৩৩-এ স্থির হয়ে আছে।

গত ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার ৬১ এলাকায় ৯৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬২ এবং শুক্রবার ৩৭ জনকে শনাক্ত করা হয়। দ্বিতীয় স্থানে আছে নারায়ণগঞ্জ। গত দুই দিনে ২৯ জনকে পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ১৩ এবং শুক্রবার ১৬ জন করোনাক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে দেশের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনলাইনে প্রচারিত হয়। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে জাতীয় রোগত্তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনার নেতৃত্বে এই বুলেটিন প্রচার হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সারা দেশে মোট ৩৩০ জন শনাক্ত হয়। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৬ জন। ঢাকার করোনা হটস্পটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মিরপুর। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৪২ জন শনাক্ত হয়েছে। অন্য হটস্পটগুলো হচ্ছে- ধানমণ্ডি, ওয়ারী, বাসাবো, উত্তরা। আইইডিসিআরের হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ মিরপুরে ৪২ জন, উত্তরায় ১৬ জন, ধানমণ্ডিতে ১৩, বাসাবোতে ১১ জন, মিরপুর-১ এ ১১, ওয়ারীতে ১০ জন। এছাড়া রাজধানীর করোনা শনাক্ত স্থানগুলো হল- আগারগাঁও ২, আদাবর ১, মোহাম্মদপুর ৮, হাজারীবাগ ৩, উর্দু রোড ১, আজিমপুর ৪, বুয়েট এলাকা ১, লালবাগ ৮, চকবাজার ৩, ইসলামপুর ২, লক্ষ্মীবাজার ২, নারিন্দা ১, দয়াগঞ্জ ১, সোয়ারীঘাট ৩, ওয়ারী ১০, কোতোয়ালি ১, ধোলাইখাল ১, বংশাল ৪, যাত্রাবাড়ী ৬, শনির আখড়া ১, বসিলা ১, ধানমণ্ডি ১৩, জিগাতলা ৩, সেন্ট্রাল রোড ১, গ্রিন রোড ৩, শাহবাগ ২, হাতিরপুল ২, পুরানা পল্টন ২, মুগদা ১, ইস্কাটন ১, বেইলি রোড ৩, মগবাজার ২, শান্তিনগর ২, বাসাবো ১১, রামপুরা ১, হাতিরঝিল ১, শাহজাহানপুর ১, বাড্ডা ২, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ৩, নিকুঞ্জ ১, আশকোনা ১, মানিকদী ১, উত্তরা ১৬, বেড়িবাঁধ ১, গুলশান ৬, বনানী ১, রাজারবাগ ১, মহাখালী ২, বেগুনবাড়ী ১, তেজগাঁও ২। মিরপুরে মোট আক্রান্ত ৪২; কাজীপাড়া ১, মিরপুর ১০ নম্বর ৩, মিরপুর ১১ নম্বর ৬, মিরপুর ১২ নম্বর ২, মিরপুর ১৩ নম্বর ১, মিরপুর ১ নম্বর ১১, শাহ আলীবাগ ২, টোলারবাগ ৮, উত্তর টোলারবাগ ৬, পীরেরবাগ ২। শুক্রবার এর সঙ্গে আরও ৩৭ জন যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা শহর ছাড়াও দেশের ২২ জেলায় এই ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবারের তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতে এসে পৌঁছায়নি।

এদিকে আইইডিসিআর পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং একজন নারী। বয়স অনুপাতে এদের দু’জনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন দু’জন, ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে একজন এবং আরেকজনের বয়স ৯০ বছর। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার, দু’জন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন পটুয়াখালীর।

নতুন শনাক্তদের বিষয়ে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৯৪ জনের মধ্যে ১০ বছরের নিচে চারজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ১২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে ২৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন রয়েছেন। এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শহরের মধ্যে আছেন ৩৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জে আছেন ১৬ জন। এছাড়া ঢাকা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রাবাড়ীতে আছেন পাঁচজন।

বুলেটিনে অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ১৮৪টি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১ হাজার ২৯৭টি। আগের দিনের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বেড়েছে ২০০টি, অর্থাৎ ১৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৫ জন হটলাইনের মাধ্যমে পরামর্শ নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ হাজার ৩৭৯ জন মানুষ স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে সেবা নিয়েছেন। ৩৩৩ নম্ব^রে ৪৫ হাজার ৭৭৬ জন পরামর্শ নিয়েছেন। আইইডিসিআরের হটলাইনে ৩ হাজার ৪৯৮ জন পরামর্শ নিয়েছেন।

অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেন, চিকিৎসকরা এন-৯৫ মাস্ক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে অন্য কোনো বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেখান থেকে যতটা পারি এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহ করছি। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ৯২ হাজার টেস্ট কিট আমরা সংগ্রহ করেছি, এর মধ্যে বর্তমানে মজুদ আছে ৭১ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৫০০টি। আমাদের মজুদ বেড়েছে ৩৯ হাজার ১৪০টি। বর্তমান মোট মজুদ হচ্ছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১১ হাজার ৮০৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৯২ জন। সারা দেশে ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, সারা দেশে ১০৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১২ জন শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এদিন দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সরাসরি অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা।









Leave a reply