সতর্ক থাকি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি

|

টুম্পা হাসান:

একদম হুট করেই পুরো পৃথিবী যেন থমকে গেল! কিন্তু মহামারির ইতিহাস পৃথিবীতে এটিই প্রথম নয়। ইতিহাস বলে গত তিনশত বছরে নিয়ম করে কয়েকটি মহামারি এসেছিল পৃথিবীতে। ১৭২০ সালে প্লেগ, ১৮২০ সালে কলেরা, ১৯২০ সালে স্প্যানিশ ফ্লু । আর এখন ২০২০ সালে কোভিড-নাইনটিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেটিকে বলেছে প্যানডেমিক বা অতিমারী। মাস চারেক আগেও কেউ ভাবতেও পারেনি পরিস্থিতি এমনটা হবে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সবাই ছোটাছুটি করছি কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত করবো! কীভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবো বা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকব। যে জিনিসটা খালি চোখে দেখা যায় না তার বিরুদ্ধে লড়াই করা সত্যিই কঠিন। তবে ভয়ে বা আতঙ্কে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে কি এর সমাধান মিলবে? কখনো কি ভেবেছেন-  করোনা তো নিজে থেকে হেঁটে এসে শরীরে প্রবেশ করবে না। তখনই ঢুকবে যখন আপনি আক্রান্ত ব্যক্তি বা বস্তুর সংস্পর্শে আসবেন ।

আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হলে-  কী করবেন আপনি? অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিজেকে সেল্ফ আইসোলেশনে নিবেন এবং সেটির নিয়মকানুনও এরই মধ্যে আমরা জেনেছি। এখন আসুন জেনে নেয়া যাক, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেলেন কী ঘটবে শরীরে। আমাদের প্রত্যেকের শরীরে একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে যেটিকে আমরা বলি- ইমিউন সিস্টেম (Body Immune System) যা কিনা আপনাকে বাহিরের শত্রুদের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকে ।

তাহলে আমরা এই ক্রাইসিস মোমেন্টে নিজেদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে  ‘Body Immune System’ মজবুত করে ফেলি না কেন! গবেষণা বলছে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সেই সব ক্ষেত্রে যাদের কো-মরবিডিটি বা একের অধিক অসুস্থতা আছে তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এই কাতারে বয়স্ক, গর্ভবতী মা, শিশু যাদের বয়স ১০ এর নিচে, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনি বা ফুসফুসের রোগে যারা ভুগছেন তাদের সংখ্যাই বেশি ।

প্রতিনিয়ত আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি- আমাদের চারপাশে হাজারো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে। তাই আসুন শরীরের রোগ প্রতিরোধের সব সৈন্যকে শক্তিশালী করে সুসজ্জিত করি । নিউট্রশনিস্টরা বলেছেন- ‘Body Immune System’ কে শক্তিশালী করতে ভিটামিন ও মিনারেলের ভূমিকা অনেক বেশি। তাই তাদেরকে সজ্জিত করুন ভিটামিন ও মিনারেলের ম্যাজিকাল ‘ককটেল’ (Cocktail) দিয়ে।

১. ভিটামিন ‘সি’ : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও ত্বকের হাড়ের কোলাজেনের সুরক্ষা দেয়।

উৎস: পেয়ারা, কমলা, বড়ই, জাম্বুরা, জাম, চেরি, সরিষা শাক, ব্রোকলি, লিচু, পেঁপে, লেবু ও আমলকি।

২. ভিটামিন ‘ডি’: ভিটামিন ডি’র ঘাটতি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে এছাড়া মেটবলিজমের গতি ধীর হয়ে যায়।

উৎস: সূর্যের আলো, দুধ, স্যালমন, টুনা, মাশরুম, ডিম, গরুর কলিজা, ইলিশ মাছের ডিম।

৩. ম্যাগনেসিয়াম : শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যা আমরা গুরুত্ব দেই না বললেই চলে।

উৎস: গাঢ় সবুজ শাক, বাদাম, তিল, সূর্যমুখীর বীজ, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, মাছ, কলা, ডার্ক চকলেট।

৪. জিংক : শরীরের কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি মিনারেল।

উৎস: সি-ফুড, মাংস, পালং শাক, ব্রকলি, রসুন, বাদাম, দুধ, ডার্ক চকলেট।

এছাড়া, ভিটামিন ও খনিজ লবণ খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন এক কাপ করে দই খেয়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ান। চিনি খাওয়া ছাড়ুন। প্রতি ১০০ বছরে এমন মহামারির হয়তো বৈজ্ঞানিক কোনো কারণ মিলবে না। তবে এটাই স্পষ্ট মানুষের অর্জন কিংবা প্রকৃতির ওপর মানুষের আধিপত্যের একটা সীমানা আছে। মানুষ কখনোই প্রকৃতির প্রভু নয়, বরং গোটা খাদ্যশৃঙ্খল বাস্তুসংস্থানের অংশমাত্র।

লেখক:  সংবাদ উপস্থাপক ও পুষ্টিবিদ।









Leave a reply