করোনা টেস্ট: ইনিংস ব্যবধানে জয় চাই

|

তাহমিদ অমিত:

অনেকেই বলছে টস করে এখন ব্যাটিং করছে করোনা। সামনেই বোলিং। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে করোনা আর ব্যাট করতে নামুক আমরা চাই না। করোনা টেস্টে আমার লক্ষ্য ইনিংস ব্যবধানে জয়। কিন্তু সব সময় চাওয়া মতো সব হয় না। উইকেট, কন্ডিশন হয়তো এখনও আমাদের পক্ষে কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে হলে পরিকল্পনা দরকার। যেমন স্পিন বান্ধব উইকেট বানিয়ে একাদশে কম স্পিনার রাখলে তো বোকামি, তাই না!

কেন টেস্ট?

আসল কথায় আসা যাক, বলতে চাইছিলাম করোনা শনাক্তের পরীক্ষা নিয়ে। যা নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা, অবিশ্বাস, জল্পনা কল্পনা। কেন পরীক্ষা কম করা হচ্ছে কিংবা পরীক্ষার ফল কি সঠিক হচ্ছে – সে নিয়ে বিস্তর আলোচনা।

বিকল্প কোনো পথ আছে?

বিষয়টা একটু অন্যভাবে ভাবা যায়। ডায়াগনস্টিক বা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কখন লাগে? যখন ডাক্তার আপনার অসুস্থতা কোথায় সেটা নিশ্চিত হতে পারেন না কিংবা আপনার অসু্স্থতার ব্যপ্তি খুঁজে বের করতে। ধরেন আপনি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলেন। কোথা থেকে সেই ব্যথা, কী কারণে হচ্ছে সেটা বের করতে হয় পরীক্ষা।

কিন্তু করোনাভাইরাসের কী কী উপসর্গ- সেটা এখন পরিষ্কার। কারো জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত সেটা প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়। প্রত্যেক উপজেলা কিংবা থানায় আমাদের হাসপাতাল আছে। পুরো দেশে কারা কারা এই সময় এমন উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ সেটা বের করা কঠিন কোনো কাজ নয়। খুঁজে বের করার পর তাদের আলাদাভাবে রেখে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করা। কেননা এমন নয় যে কারো করোনা নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ কোনো চিকিৎসা দেয়া হয়।

এভাবে প্রাথমিক কাজটা আমরা করে ফেলতে পারি। হ্যাঁ, এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা করাতে হবে। বাছাই করা সবাইকে এরপর পিসিআর টেস্টে করোনা নিশ্চিত করতে হবে। এমন কী অ্যান্টিবডি দিয়ে যে র‌্যাপিড টেস্ট কিটের কথা বলা হচ্ছে তাও কাজে লাগানো যাবে।

কিন্তু পরস্পরের দোষ চাপাতে গিয়ে সময় নষ্ট করার সময় না এখন। সারাদেশে সাধারণ ছুটি চলছে। এই সময়টা কাজে লাগাতে হবে। করোনা পরীক্ষা কিটের স্বল্পতা, পিসিআর ল্যাব তৈরি হচ্ছে, কিছুদিন পর কিট আসবে, পরীক্ষার পরিধি বাড়বে, দ্রুতই ব্যবস্থা নিচ্ছি- এসব বলে সময় নষ্ট না করি।

সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জ্বর, গলা ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা নিউমোনিয়ার রোগী তাদের দ্রুত আলাদা করুন। তালিকা প্রস্তুত করুন থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ধরে।

এটা প্রাথমিক কাজ। আদতে করনো থেকে রক্ষা পেতে দেশের সবাইকে টেস্ট করানোর বিকল্প পথ নেই। সচেতনভাবেই বলছি সবাইকে। কেননা গবেষকরা বলছেন করোনা সংক্রমণের পর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না এমন লোকের সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগ হতে পারে। এরকম ব্যক্তিই নাকি সবচেয়ে বেশি রোগ ছড়ায়। তাই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ে আপাতত হাতিয়ার টেস্ট-টেস্ট আর টেস্ট।

এরপর আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করা। এ কাজটাই করে যেতে হবে সামনে লম্বা পথে।
লক্ষ্য ইনিংস ব্যবধানে কোভিড-১৯ কে হারানো। কেননা চীনে এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে সেই ভাইরাস। বিদেশ ফেরতদের দিয়ে দ্বিতীয় ওয়েভে আক্রান্ত হচ্ছে চীনারা। তাই সাবধান হতে হবে আমাদের।

তাহলে সম্ভব করোনা টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে বাংলাদেশের জয়।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন।









Leave a reply