আমার স্বামীকে পুলিশ ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে: শাহেনা আক্তার

|

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইউনুছ আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী। তিনি বলছেন, চার মাস আগে স্বামীকে হয়রানি-নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। আর পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আত্মরক্ষায় চালানো গুলিতে মারা গেছেন ইউনুছ। পাল্টাপাল্টি এমন বক্তব্যের পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সরব সচেতন মহল।

মাদক সেবনের একটি অভিযোগ পেয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইউনুছ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, সেসময় গ্রেফতার এড়াতে হামলা চালায় ইউনুছ ও তার সহযোগীরা। আত্মরক্ষায় এসআই আতাউর রহমান গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইউনুছ। কিন্তু নিহতের পরিবারের বলছে, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় তাকে।

এলাকাবাসীও বলছেন একই কথা। যমুনা টেলিভিশনের কাছে গ্রামের অনেকেই বলেছেন, ইউনুছ মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না।

গত বছরের আগস্ট মাসে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন ইউনুছের স্ত্রী শাহেনা আক্তার। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, তার বাড়িতে স্বামীকে ধরতে এসে এসআই আতাউর রহমান ও অন্য পুলিশ সদস্যরা শাহেনাকে শারিরীক নির্যাতন করেছিলেন। ওই মামলার জেরেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয় বলে মনে করেন তিনি।

শাহেনা আক্তার বলেন, আমাকে নির্যাতনের পর বাধ্য হয়ে মামলা করেছিলাম। মামলাটি তুলে না নেয়ায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর একটি বাড়িতে ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে।

এদিকে ইউনুছকে ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ। আর পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলাটি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন চুনারুঘাট থানার ওসি কে এম আজমিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ওই মামলাটি তদন্তের পর মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের বিরুদ্ধে এরকম নানা ঘটনা সাজিয়ে রাখে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করতে বাধার সম্মুখীন হয়।

যেহেতু হত্যাকান্ডটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাই এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সচেতন মহলের।  হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান তালুকদার বলেন, বিষয়টি আসলে তদন্ত করে দেখা উচিত। যদি পুলিশ অহেতুক তাকে গুলি করে থাকে তাহলে অবশ্যই এর বিচার ও শাস্তি হতে হবে। আবার যদি আত্মরক্ষার্থে গুলি করাে হয় তাহলে সেটিও প্রমাণিত হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের হবিগঞ্জ শাখা হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, ঘটনাটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া দরকার।









Leave a reply