যাত্রী নেই আয়ও নেই অসহায় রিকশাচালকরা

|

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে চলছে সরকারি ছুটি। প্রায় অফিস-আদালতই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষ। ফলে একেবারেই যাত্রী পাচ্ছেন না রিকশাচালকরা। এতে তাদের আয়ও নেমে এসেছে অর্ধেকের কমে। সারা দিন রিকশা চালিয়ে জমা (ভাড়া রিকশার দিনপ্রতি খরচ) ১০০ টাকা দেয়ার পর অবশিষ্ট বলে তেমন কিছুই থাকছে না। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের।

দুপুর ২টা ২০ মিনিট। যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে প্রায় শতাধিক রিকশা। ১০-১৫ মিনিট পরপর দু’একজন যাত্রীও আসছেন। তবে তাতে চাহিদা মিটছে না রিকশাচালকদের। দু’টাকা কম হোক আর বেশি হোক, সব রিকশাচালকই চাচ্ছেন যাত্রীটাকে নিজের রিকশায় তুলতে। এজন্য যখনই একজন যাত্রীর দেখা মিলছে, তখনই প্রায় সব রিকশাচালকই তার দিকে এক ধরনের ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম স্থান যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার চিত্র এটি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এমন সময় এখানে পথচারীদের পদচারণায় তিল ধারণের ঠাঁই হয় না। আর বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে কমই বের হচ্ছেন। ফলে এখানে যাত্রীর চেয়ে রিকশাচালকই বেশি থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের হিসাব মতে লাইসেন্সধারী বৈধ প্রায় ৮৬ হাজার রিকশা মহানগরীতে আছে। তবে এ লাইসেন্স দেয়ার কার্যক্রমও প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে। আর এ সময়ে ২৫টি সংগঠনের বাণিজ্যে প্রায় ১২ লাখের বেশি রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানীর রাজপথে। আর রিকশাচালকদের প্রায় সবাই হতদরিদ্র ও অসহায় শ্রেণির মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সর্বশেষ ২০১৪ সালের জরিপ অনুযায়ী ঢাকায় ভাসমান শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আরও দেড় লাখ। রিকশাচালক ও গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত আছে আরও ৬ লাখ মানুষ। এর বাইরে বিভিন্ন পেশার স্বল্প আয়ের মানুষ আছে প্রায় ১৬ লাখ। এদের অধিকাংশেরই প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চলে। এতদিন পর এসব সংখ্যা কততে দাঁড়িয়েছে, সেটির নিশ্চিত তথ্য এখন না পাওয়া গেলেও সংখ্যা বাড়ছে। কারণ, প্রতিদিন নতুন করে বহু মানুষ ঢাকায় আসছেন।

রাজধানীর ধলপুর সর্দার গলির বাসিন্দা রিকশাচালক জব্বার মিয়া বলেন, ঘরে মা, বউ, দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। আমার রিকশার চাকা না ঘুরলে তাদের ভাত জুটবে না। তাই আতঙ্ক থাকলেও না খেয়ে মরার চেয়ে করোনাভাইরাসে মরা ভালো।

কদমতলীর মোহাম্মদবাগ এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক সালাম মিয়া বলেন, আগে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম হতো। কোনো কোনো দিন আরও বেশি হতো। তখন জমা ১০০ টাকা দিয়েও যা থাকত তা দিয়ে সংসার চালাতাম। এখন তো সারাদিন ২০০ টাকার ওপর কামাই করাই ভাগ্যের ব্যাপার। সেখান থেকে জমার টাকা দিয়ে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। শুনেছি, কেউ কেউ নাকি সাহায্য দিচ্ছে। তবে আমার কপালে এসব সাহায্য জুটেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীতে বসবাসরত অনেক শ্রমজীবী মানুষই তাদের কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।

যাত্রাবাড়ী এলাকার রিকশাচালক মনছুর আলী বলেন, আমার নিজস্ব রিকশা নাই। ভাড়ায় রিকশা চালাই। এখনও তো কামাই-ই নাই। মালিকের জমা খরচ দেয়ার পর তেমন কিছুই থাকে না। যা থাকে তা সাত সদস্যের পরিবারের জন্য কিছুই না। আমাদের যেন না খেয়ে মরতে না হয়। সরকারের উচিত আমাদের সাহায্য করা।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply