আগামী তিনদিনের মধ্যে রাজশাহীতে করোনার টেস্ট

|

আগামী তিনদিনের মধ্যে রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের টেস্ট শুরু হবে। দেশের চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে আঞ্চলিক করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দ্রুততার সঙ্গে তৈরি হচ্ছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় বিদেশ প্রত্যাগত ৩২৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১০৬ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩২, নওগাঁতে ৭, নাটোরে ১৬, জয়পুরহাটে ২৫ ও পাবনায় ১২ জন। তবে সিরাজগঞ্জে এ সময়ের মধ্যে কাউকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৫ হাজার ৭৩৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক আরও জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার একটি মেশিন গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছেছে। পৃথক করোনা ল্যাব তৈরির কাজ চলছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তার, প্রয়োজনীয় জনবল, টেকনিশিয়ান ও সহায়ক জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, দুই একদিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে করোনা পরীক্ষার কিটস ও কেমিক্যাল সামগ্রী রাজশাহীতে এসে যাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী তিনদিনের মধ্যে রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে।

এদিকে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা গরহাজির থাকছে বলে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী মানুষ নানান সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেন আচার্য আরও বলেন, এই সময়ে সকল চিকিৎসককে নিজ নিজ কর্মস্থলে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী মহানগরীর পপুলার, ল্যাবএইড, মাইকোপ্যাথ, জিলিয়াসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনেকেই দরজায় নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন।

তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়র ও ইন্টার্ন ডাক্তারদের ওপর ওয়ার্ডের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে তারা নিজ নিজ বাসা বাড়িতে থাকছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রামেকের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, অনেক চিকিৎসকের পিপিই না থাকায় তারা ওয়ার্ডে আসতে পারছেন না। সময়টা যেহেতু খারাপ তাই তারা কেউ কেউ আসছেন না। তবে দ্রুত সময়ে পিপিই এসে গেলে সবাই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন বলে আশা করেন তিনি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply