করোনা বাস্তবতায় হিসাব করে খাচ্ছেন তো?

|

নূরনবী সরকার:

করোনার কারণে বাংলাদেশসহ পুরো দুনিয়া লকডাউন প্রায়। যদিও অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা হলেও সচল আছে। তারপরও পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় অনেকখানি প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস। অনেক মানুষ পণ্য মজুদ করেছেন। অনেক মানুষ পণ্য মজুদ করতে পারেননি। কতদিন করোনাভাইরাসের কারণে দেশ বা বিশ্ব লকডাউন থাকে তা বলা মুশকিল। তবে এটা বলা যায় পরিমিত ভোগের মাধ্যমে মানুষ তার এই দুর্যোগকালীন সময় মোকাবেলা করতে পারে। খাদ্যের সংকট হতে পারে। এমন প্রস্তুতি রাখতে পারেন।


কীভাবে ভোগ কমাবেন?

আমার এই লেখাটি নতুন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শহুরে ও গ্রামীণ মানুষের জন্য। আপনি পুষ্টি হিসাব করে সারাদিনে তিনবারই খাবার গ্রহণ করুন। তবে হিসাব রাখতে হবে। আপনি যেখানে স্বাভাবিক সময়ে অনেকগুলো সবজি বা তরকারি বা খাদ্য উপাদান দিয়ে খেতেন সেখানে কমিয়ে ফেলুন আইটেম। এক বা দুয়ের বেশি তরকারি বা উপাদান দিয়ে খাবার বা রুটি বা খিচুড়ি খাবার দরকার নাই। অত্যাবশ্যকীয় খাবার উপাদানগুলো খাবেন পরিমিত। বিলাসী খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। চিন্তা করতে হবে সামনের দিনগুলো নিয়ে। এমন লকডাউনকালে একটি দিন পার করা মানে হলো আপনি করোনা যুদ্ধে এগিয়ে যাচ্ছেন জয় লাভের দিকে।

যুক্তি দিয়ে ভাবুন, ইগো, লজ্জা কিংবা জেদ পরিহার করুন!

মধ্যবিত্তের আছে ইগো। গরীবের আছে জেদ। দুটোই এই সময়ে বাদ দিন। খাবারের ছবি ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া থেকে বিরত থাকুন। সুযোগ থাকলে পাশের দরিদ্র মানুষটির জন্য কিছুটা হলেও খাবার দিন। যাদের সামর্থ্য আছে। এখন সবাই বাসায় বন্দি। এটা কখনই ভাববেন না যে আপনি পিকনিক করার মুডে আছেন। বরং এটা ভাবুন পুরো দুনিয়ার মতো আপনিও নতুন দুর্যোগে আছেন। আবার এটা ভাবারও দরকার নেই যে আপনি উন্নত দেশে আছেন। আপনি ভাবুন বাংলাদেশে আছেন। রাষ্ট্রের এত ক্ষমতা নেই যে আপনাকে বাসায় এসে নিয়মিত খাবার দিয়ে যাবে। তবে বয়স্ক, গর্ভবতী, ও শিশুদের বেলাতে কোনওভাবেই খাবার কম দেবার দরকার নেই। সবুজ শাক ও সবজি পাওয়া কঠিন। এই সময়ে অতিরিক্ত খাবার যেমন খাওয়া যাবে না। তেমনি মাংস কম খেতে হবে। পর্যাপ্ত পানি খেতেই হবে। পর্যাপ্ত ফলের যোগানও এখন পাওয়া কঠিন। মনে রাখবেন আপনি যুদ্ধকালীন সময়ে আছেন। সবকিছু এখন স্বাভাবিক সময়ের মত প্রযোজ্য নয়।

খাবারের সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের যোগ

অনেকে খাবার কম খেলে বা কম আইটেম দিয়ে খেলে মন খারাপ করেন। এখন যেহেতু একটা নতুন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। তাই কথায় কথায় অন্তত খারারের ইস্যুতে রাগ করা যাবে না। এটা মনে রাখতে হবে কম খেয়ে কেউ কখনো মরে না। বরং বেশি খেয়ে এবং দুর্যোগের সময়ে খাবার নষ্ট করলে ক্ষতি হবে আমার আপনার ও দেশের। ভেবে দেখুন আপনি যখন খাচ্ছেন দুটো ভাত। দুর্যোগের এমন সময়ে দেশে কোটি মানুষ আছে যাদের ইনকাম না থাকায় খেতে পাচ্ছে না এক বেলাও। নিজের মনকে শক্ত করুন। বিপদ কেটে যাবার দিনটির জন্য অপেক্ষা করুন।

খাবার তৈরিতে কৌশলী হন

এই সময় চাহিদা মত খাদ্য উপাদান মিলবে না। একই রকমের খাদ্য উপাদান দিয়ে খেতে হচ্ছে প্রতি বেলা। সেখানে খাবার রান্না ও পরিকল্পনায় কৌশলী হতেই হবে। একই খাদ্য উপাদান দিয়ে একই ধরনের খাবার আইটেম তৈরি করা থেকে এখন বিরত থাকুন। নানা রকম আইটেম বানাতে পারেন। সম্ভব হলে ইউটিউব দেখে পছন্দমতো রেসিপি নামিয়ে রান্না করুন। এতে করে খাবারের প্রতি অরুচি বা একঘুয়েমি কেটে যাবে। তবে খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট চালাতে গিয়ে যেন খাদ্য উপাদান অপচয় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। মনে রাখবেন খাবার অপচয় করছেনতো নিজেকে খাবার সংকটের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে স্বাভাবিকের থেকে কম খেতে হবে। 

বাজার?

বাজারে কবে নাগাদ পণ্যের যোগান স্বাভাবিক হবে? বা দামের একটা সহনীয় ভাব থাকবে- এটা অনুমান করা কঠিন। তবে এটা অনুমান সহজেই করা যায় এমন দুর্যোগে বাজারে দাম ও পণ্যে দুটোই নাজুক অবস্থায় থাকে। বেশি দাম পড়বে। ক্রেতাকেই ঠকতে হয় বেশি। বাজারের স্বাভাবিক নিয়মকানুনও এখন মেনে চলেন না বিক্রেতা বা ক্রেতা। আবার ভালো পণ্য পাওয়াটাও কঠিন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পর বাজারে পণ্যের সরবরাহ কিছুটা বাড়বে। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে। আর এটা আন্দাজ করা কঠিন নয় দাম সেসময় বেশিই থাকবে। কারণ বহু সংখ্যক ক্রেতা একই সময়ে বাজারে যাবে। কারণ দীর্ঘ বন্ধের কারণে খাবারের মজুদ কমে আসবে। সুযোগ বুঝে কালোবাজারিও মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি করবে। এই সময়ে সমাধান হবে ভোগের রাশ টেনে ধরা। সবসময় মনে রাখুন আপনি লকডাউনের মধ্যে আছেন।

মনে সাহস রাখুন

এমন সময় আসলে চিরদিন চলবে না। দীর্ঘায়িত হতে পারে দুর্যোগ। তার জন্য পরিকল্পনা রাখুন। কোনোভাবেই বিপদে আশা হারাবেন না। যাদের সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস আছে তারা কোনোভাবেই আশাহত হতে পারেন না। বিপদে সাহসই আসল। ভীতুদের জন্য, অপচয়কারীদের এই সময় অনেক শিক্ষা দেবে। দুর্যোগকালে জীবনচলার সবারই অভিজ্ঞতা থাকে না। তবে সবারই ধৈর্য আছে। দুর্যোগে সাহস ও ধৈর্য ও বড় অস্ত্র। পরিকল্পনা করুন প্রতিটা দিন নিয়ে। আপনার বুদ্ধি বা কৌশলই হয়তো  খাদ্য উপকরণের অভাব অনেকখানি পূরণ করতে পারে।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply