ভৈরবে করোনা ভয়ে সেবা দিতে চিকিৎসকদের অনীহা

|

কিশোরগন্জ প্রতিনিধি:
করোনা ভয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সসহ স্হানীয় বেসরকারী কোন হাসপাতালে গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা বা ডেলিভারী সিজার করছে না ডাক্তারগন।

বুধবার প্রস্যুতির রোগীর অভিভাবকগন এ অভিযোগ করেন। প্রশাসনের নির্দেশে ভৈরব উপজেলা পৌর শহর এলাকায় লোকসমাগম কমে গেছে। এর আগে মাইকিং করে কাঁচাবাজার, ওষধের ফার্মেসী, হোটেল- রেস্তোরা ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজ বন্ধ করার কথা বলা হয়। শহরের রাস্তাগুলি ছিল ফাঁকা। নদীতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকজন প্রস্যুতির রোগীর অভিভাবকগন অভিযোগ করেছেন, উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সসহ স্হানীয় বেসরকারী কোন হাসপাতালে গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা বা ডেলিভারী সিজার করছে না ডাক্তারগন। এমনকি হাসপাতালের ডাক্তাররা জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসপ্রসাস কষ্টের কোন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।

ইতোপূর্বে ভৈরব উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন যেখানে রোগীর উপস্হিতি ছিল ৫০০/৬০০ আজ বুধবার সেখানে রোগীর উপস্হিতি হয়েছে মাত্র ৪০ জন। দুপুর ১২ টায় সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। জরুরী বিভাগসহ হাসপাতালের কোন চেম্বারে ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায়নি। একই চিত্র বেসরকারী হাসপাতালগুলোতেও।

গ্রাম থেকে আসা কৃষক সাদেক মিয়া জানান, আমার স্ত্রী গর্ভবতি এবং আজই তার সন্তান ডেলিভারির তারিখ ছিল কিন্ত কোন হাসপাতালের ডাক্তার চিকিৎসার জন্য রাজী হয়নি। বাধ্য হয়েই আমি বাজিতপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছি।

আঃ রশিদ নামের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন আমার মেয়ের তিনদিন যাবত জ্বর ও কাশি কিন্ত হাসপাতালসহ কোন ডাক্তার তাকে চিকিৎসা দিতে রাজী হয়নি। বাধ্য হয়ে গ্রামের ফার্মেসী থেকে কমপাউন্ডারের কথামত ওষধ কিনে খাওয়াচ্ছি।

উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ জানান, জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে হট লাইনে কথা বলে চিকিৎসা নিতে হবে। তবে নরমাল অন্য কোন রোগের চিকিৎসা হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে। গর্ভবতী হলে হাসপাতালে সিজার করার কোন গাইনি ডাক্তার নেই, তবে নরমাল ডেলিভারীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা জানান, সরকারী নির্দেশে শহরে লোকসমাগম কম থাকতে বলা হয়েছে। রাস্তায় জটলা বেঁধে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। ডাক্তারগন জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্টের রোগী ছাড়া সকল ধরনের চিকিৎসা করবে। কোন ডাক্তার চিকিৎসা না করলে এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।









Leave a reply