ভীষণ চাপে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর

|

শাকিল হাসান:

প্রতিবেশী দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়ার পর আইইডসিআর নাগরিকদের এ সম্পর্কিত তথ্য ও শনাক্তের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করে। যেখানে ফোন দিয়ে নাগরিকরা তাদের শারীরিক সমস্য বলবেন। সেসব শুনে ফোন রিসিভ করা চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন ওই ব্যক্তির কোভিড-১৯ টেস্ট করা প্রয়োজন কিনা? এমনটাই ছিল সিদ্ধান্ত। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে ১৫ থেকে ২০টি হটলাইন ফোন নম্বর দেয়া হয়। এই ফোনগুলোতে সরাসরি চিকিৎসকরাই সাড়া দেন বলেও জানায় আইইডিসিআর।
কিন্তু এই হটলাইন সেবা কতটুকু পাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা?

গত ২১ মার্চ মিরপুরের টোলারবাগে এক সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ছুটোছুটি করেন। স্বজনরা এবং ওইসব হাসপাতালের চিকিৎসরাও সন্দেহ করছিলেন বয়স্ক ব্যক্তির করোনা সংক্রমণের। টেস্ট করাতে তারা যোগযোগও করেছিলেন আইইডিসিআর-এ। কিন্তু সাড়া পাননি। পরে প্রভাবশালীদের ফোন দিয়ে বয়স্ক ব্যক্তির টেস্ট করানো হলে করোনা ধরা পড়ে। কিন্তু ততক্ষনে দেরি হয়ে গেছে অনেক।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে দু’এক করে মারা যাওয়ার খবরও আসছে কয়েক দিন ধরে। তাদের মধ্যে করোনার শক্ত উপসর্গও দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করছেন স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টেস্ট না করায় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

আইইডিসিআর-এর ওয়েবসাইটের ডান পাশে দশটি হটলাইন নম্বরে দুপুর সোয়া বারোটা থেকে ১২টা ৪০ পর্যন্ত নম্বরগুলোতে টানা ফোন করেন একজন ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি। কিন্তু তিনি কোনো নম্বরেই যোগাযোগ করতে পারেননি।

এরপর তিনি আইইডিসিআরের ফেসবুক পেইজে যান। সেখানে আপলোড করা নম্বরে ফোন করেও যোগযোগ করতে পারেননি তিনি। সবগুলো নম্বরই ব্যস্ত। রাজধানীর অন্য কোথাও এই রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা নেই যে সেখানে যাবেন। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, হটলাইনের নম্বরগুলো যদি সব সময় ব্যস্তই থাকে তাহলে রোগ শনাক্তের উপায় কী? সংস্থাটির ফেসবুক পেজেও দেখা গেল অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

ইয়াসিন আরাফাত নামের একজন আইইডিসিআরের ফেসবুকে পেইজে লিখেছেন, প্রচণ্ড শরীর ব্যথ্যা, হালকা জ্বর। কী হতে পারে? যদিও তার কমেন্টে কোনো পরামর্শ দেয়া হয়নি আইইডিসিআর’র পক্ষ থেকে।

রশীদ খান নামেন একজন লিখেছেন ৯৯৯ এর মতো একটি জরুরি নম্বর দেয়া হোক করোনাকালীন সেবা দেয়ার জন্য। আর করোনা শনাক্ত করার বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর বাইরের মানুষের হাহাকার তো রয়েছেই।
যদিও আইইডিসিআর বলছে, অতিরিক্ত চাপের কারণে নম্বরগুলো সব সময় ব্যস্ত থাকছে। ফোন করে অনেকে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন এমন অভিযোগও করছে আইইডিসিআর।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সারা দেশের প্রায় ১৮ কোটির মানুষের জন্য একটি স্থান থেকে টেস্টের ব্যবস্থা করা হলে চাপ পড়বে সেটা অনুমিতই ছিল। তাহলে রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনা টেস্টের সুযোগ কেন বাড়ানো হচ্ছে না। আইইডিসিআর শুরুর দিকের এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল তাদের হাসপাতাল প্রস্তুত আছে। করোনা শনাক্তের সুবিধা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। সেই সুবিধা এখনো কেন প্রস্তুত নয় সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের।

এখন পর্যন্ত আইইডিসিআর মাত্র ৬২০ জনের টেস্ট করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করেছে ৫৬টি। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মোট কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন ৩৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন। আর কোভিড-১৯-এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন। অনেকের আশঙ্কা আরও মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষার অভাবে তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। আর এটিকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন যত দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইসোলেশনে পাঠানো যাবে ততই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের আক্রান্তদের ত্বরিত শনাক্ত না করতে পারলে মহামারি ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, যমুনা টেলিভিশন।









Leave a reply