পালিয়ে যাওয়া সেই কাতার প্রবাসী করোনা আক্রান্ত নন

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই কাতার প্রবাসী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছেন।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসী ব্যক্তি নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ধানতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

গত ৩ মার্চ তিনি কাতার থেকে দেশে ফেরেন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। মূলত সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার ‘করুণ’ অবস্থা দেখে তিনি বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

এর আগে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কাতার প্রবাসী ওই ব্যক্তি গত বুধবার সন্ধ্যায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে নাসিরনগর থেকে সদর হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বি এম মুছা চৌধুরী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তখন ওই প্রবাসী ভর্তির জন্য হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন।

তখন চিকিৎসক করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে উল্লেখ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান তাকে। এসব শোনার পর ভয়ে কাউকে কিছু না বলেই তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে নাসিরগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ওই প্রবাসীকে খুঁজে বের করে।

শনিবার তার শারীরিক বেশ কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পর তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন বলে জানায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

ওই প্রবাসী সাংবাদিকদের বলেন, চিকিৎসক আমাকে ওষুধ ও ইনজেকশন দিয়ে বলেছিল হাপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য। ভর্তি হওয়ার জন্য গিয়ে দেখি হাসপাতালের অনেক করুণ অবস্থা। মশা-মাছির উপদ্রপ, ইনজেকশন দেয়ার মতো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নেই। তাই আমি গ্রামে চলে আসি এবং গ্রামের ডাক্তারের কাছ থেকে ইনজেকশন দেওয়াই। এরপর গুজব ছড়ানো হয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় আমি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছি। আমি একদম সুস্থ্য মানুষ,অথচ আমার মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনও চিহ্ন নেই।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় জানান, ওই প্রবাসীকে নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ্য, তার পরিবারেরও কেউ অসুস্থ্য নয়। যদি তিনি করোনায় আক্রান্ত হতেন তাহলে তার পরিবারও আক্রান্ত হতো। আবহাওয়া বদলের কারণে তার জ্বর আসতেই পারে।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পর প্রবাসী শুনে তাকে ভর্তি দেয়া হয়েছিল। পরিবেশ দেখে তার ভালো লাগেনি বলে ভর্তি হননি।

এই ব্যাপারে সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, করোনায় আক্রান্তদের জন্য আমাদের আলাদা আইসোলেশন কক্ষ আছে। তাকে আমাদের তরফ থেকে প্রটেকশন দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি নিজে নিজে ঘুরে পরিবেশ পছন্দ হয় কী-না সেটা দেখতে পারেন না। যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতেন তাহলে তিনি পুরো হাসপাতালকে আক্রান্ত করে ফেলতেন।









Leave a reply