করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তির দাফন হবে যেভাবে

|

করোনাভাইরাসের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিকে দাফন বা সৎকারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা পোশাক পরিধান করে স্পর্শ করতে হবে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা যাবে না। সমাধিস্থলে যাওয়ার আগেই ধর্মীয় রীতি অনুসারে জানাজা বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোভিড-১৯ রোগে মৃত ব্যক্তির দাফন বা সৎকারের বিষয়ে একটি প্রণীত গ্রহণযোগ্য নির্দেশনা বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেজিওরে (এসওপি) এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এই এসওপি প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ কাজে যুক্ত ছিল রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। মৃত ব্যক্তি থেকে যেন ভাইরাসটি ছড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীসহ যারা দাফন বা সৎকার করবেন তাদের এ প্রক্রিয়াটি জানতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে মতপার্থক্য বা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবারকেও এ বিষয়টি জানাতে হবে, কারণ মৃতদেহকে ধর্মীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের অধিকার পরিবারের রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সম্মতির বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এতে আরও বলা হয়েছে, দাফন বা সৎকার যথাসম্ভব ধর্মীয় অনুশাসন মেনে করতে হবে। পরিবারের কাছে জানতে চাইতে হবে দাফনে তাদের কোনো অনুরোধ রয়েছে কিনা। কারণ চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী অতি সংক্রমণশীল রোগে মৃতদের বিশেষ পদ্ধতিতে গোসল করানো শ্রেয়। তাছাড়া মুসলিম ব্যক্তির মৃতদেহ ব্যাগে কাপড়বিহীনভাবে দাফন করা যাবে না। দাফনের সময় সেলাইবিহীন সাদা সুতি কাপড় কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ব্যবস্থাপনা দল বা পরিবারের পক্ষ থেকে কাপড় সরবরাহ করা যেতে পারে। মহিলাদের মৃতদেহের সৎকারে ব্যবস্থাপনা দলে নারী সদস্য থাকলে ভালো। প্রয়োজনে আগে থেকে ইমাম সাহেবের অনুমতিসাপেক্ষে মৃতদেহ বহনকারী ব্যাগটি কাফন হিসেবে প্রতিরূপ করা যাবে। মুসলমানদের মৃতদেহ বহনে সাদা ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। মৃতদেহের দাফন শুরুর আগেই আইইডিসিআরের ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল টিমকে জানাতে হবে।

রোগীর ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুরক্ষা পোশাক পরিধান করে মৃতদেহ স্পর্শ করবেন। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা যাবে না। সন্দেহজনক মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুরক্ষা পোশাক পরে জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়া মেনে মুখের লালা সংগ্রহ করবে। মৃতদেহ সৎকারে চার সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা দল কাজ করবে। যারা সম্পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক পরবে (হাতের গ্লাভস, হেভি ডিউটি গ্লাভস, ডিসপোজেবল কাভার অল সুট, অভেদ্য প্লাস্টিক অ্যাপ্রোন, ফেস প্রোটেকশন, রাবারের তৈরি জুতা, যা পানি ও ছিদ্র প্রতিরোধী এবং ওভারসুজ)। এছাড়া সম্পূর্ণ সুরক্ষা পোশাক পরে একজন জীবাণুনাশক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। পরিচ্ছন্নতার কাজে সাবান পানি বা ৭০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। জড়বস্তু ও সমতল স্থান পরিষ্কারের জন্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ হাইপোক্লোরাইট সলিউশন ব্যবহার করতে হবে। মৃতদেহে যদি টিউব, ক্যাথেটার যুক্ত থাকে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। মৃতদেহ পরিষ্কার করা বা ধোয়া যাবে না। সৎকারের সময় নাক, কান, পায়ুপথ তুলা দিয়ে ভালো করে বন্ধ করে দিতে হবে। যেন কোনো তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়তে না পারে। মৃত্যুর স্থানেই মৃতদেহটি প্লাস্টিকের কভার দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে হবে। সমাধিস্থলে যাওয়ার আগেই ধর্মীয় রীতি অনুসারে জানাজা বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মৃতদেহ অপসারণের পর রোগীর ঘরটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির চালকদের এক্ষেত্রে পিপিই প্রয়োজন হবে না বলে এসওপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গাড়িটির অভ্যন্তরে ১:১০ ব্লিচ সলিউশন দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, মৃতদেহ যাওয়ার আগেই কবর খনন করতে হবে। দাফনের পর স্থানটি ১০ থেকে ১৫ সেমি. গভীর মাটির স্তর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। দাফনকৃত স্থানের আশপাশে উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।









Leave a reply