সাংবাদিক নির্যাতনকারী সেই আরডিসি নাজিমের কোটি টাকার বাড়ি?

|

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে নির্যাতনকারী আরডিসি (সিনিয়র সহকারি কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দীন তৈরি করছেন কোটি টাকার বাড়ি। স্ত্রীর নামে যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরে ৮ শতাংশ জমির উপর ৫ তলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে যার চার তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিন ইউনিটের এই বিল্ডিংয়ের প্রতিটি তলা ২৯০০ স্কয়ার ফিটের। বাড়িটি নির্মাণে এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে পঞ্চাশ লক্ষাধিক টাকা। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ টাকা।

জানা যায়, নাজিম উদ্দীনের মনিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মৃত নিছার আলীর ছেলে। বৈবাহিক সূত্র ধরে উপজেলার কাশিপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে ঘর জামাই থাকতেন বাবা নিছার আলী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান নাজিম উদ্দীন মেধাবী হওয়ায় লেখাপড়ায় স্থানীয়রা সহযোগিতা করেছেন। তার বাবা ছিলেন দিনমজুর ও ইট ভাটার শ্রমিকের কাজ করতেন। সরেজমিন কাশিপুর গ্রামে গেলে এসব তথ্য উঠে আসে।

নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার, বাগেরহাট ও মাগুরার মহাম্মদপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগসহ এক বৃদ্ধকে টেনে হিচড়ে মারতে মারতে নেয়ার ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরামপুর পৌর এলাকার গাংড়া মৌজায় তার শ্বশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (অবঃ) আব্দুর রাজ্জাকের নামে ৪৬ লাখ টাকায় ১৪.৬৯ শতক জমি কেনা হয়।

জমির সাবেক মালিক আকবর আলী জানান, স্থানীয় মোসলেম উদ্দীনের মধ্যস্থায় ৪৬ লাখ টাকায় তিনি ওই জমি বিক্রি করেন। যা আব্দুর রাজ্জাকের জামাই ম্যাজিস্ট্রেট নাজিম উদ্দীন কিনেছেন। কিন্তু দলিল করা হয় নাজিম উদ্দীনের শ্বশুর আব্দুর রাজ্জাকের নামে।

এছাড়া মনিরামপুর মৌজায় ৮ শতক জমি ১৩ লাখ টাকায় কেনা হয়। যা নাজিম উদ্দীনের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জমির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে ৫-তলা বিশিষ্ট এই বিশাল অট্টালিকা। ইতোমধ্যে যার ৪-তলা সম্পন্ন হয়েছে।

এসব বিষয়ে নাজিম উদ্দীন দাবি করেন, তার শ্বশুর পেনশনের টাকা দিয়ে গাংড়া মৌজায় জমি কিনেছেন। আর শ্বশুরের কিনে দেয়া স্ত্রীর সাবরিনা সুলতানার নামে ৮ শতক জমির উপর ভবনটি প্রবাসি শ্যালিকা নির্মাণ করছেন। আসলে তার কিছুই নেই বলে তিনি দাবি করেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply