শরিয়তপুরে অধিকাংশ প্রবাসীই মানছেন না হোম কোয়ারেন্টাইন

|

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যেসব প্রবাসী শরীয়তপুর এসেছেন তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আইইডিসিআরে জানানো হলে ওই প্রবাসীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন আইইডিসিআর। তবে বিদেশ ফেরত অধিকাংশ প্রবাসীই মানছেন না স্বাস্থ্য বিভাগের সে নির্দেশনা।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শনিবার পাঁচটা পর্যন্ত ২২৬ জন প্রবাসী শরীয়তপুরে এসেছেন। যাদের বেশির ভাগ ইতালি প্রবাসী। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতি ইউনিয়নে তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীকে পর্যবেক্ষণ, নতুন প্রবাসী আগমন ও সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অবহিত করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। যারা এসেছেন তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা এখনো ভালো রয়েছে তবে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার একজন প্রবাসীকে সন্দেহ হওয়ায় তার নমুনা আইইডিসিআর সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। দুই এক দিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে‌। সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। রয়েছে কোয়ারেন্টাইনও। এছাড়া জাজিরা উপজেলায় ৫০ শয্যার কোয়ারেন্টাইন ইউনিট খোলা হয়েছে। এভাবে প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমপ্লেক্সে বেড অনুযায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড ও কোয়ারেন্টাইন কক্ষ রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়,শরীয়তপুরের অন্তত দেড় লাখ প্রবাসী রয়েছেন; যার ৭৫ শতাংশই ইতালি প্রবাসী। শনিবার শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়া উপজেলার কয়েকটি স্থানে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় অনেক প্রবাসী যারা মার্চ মাসের ৩ তারিখ থেকে ১১ তারিখের মধ্যে এসেছেন। তারা বাড়িতে না থেকে হাটবাজারে ঘুরছেন, চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন আর মিশছেন বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সাথে।

নিরাপদ দূরত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে কথা হয় এদের দুই একজনের সাথে। বলছেন, তারা সুস্থ রয়েছেন। দেশের মাটিতে এসেছেন সুস্থ থাকার জন্য । তাদের সাথে বিষয়টি বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে বলেও জানান।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন প্রবাসীদের পর্যবেক্ষণ করছেন, দিচ্ছেন পরামর্শ । অনেক ক্ষেত্রে এসব স্বাস্থ্যকর্মীরা মুখোমুখি হচ্ছেন নানা বিড়ম্বনার। তবে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠে থাকবেন।

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা যেসব প্রবাসীরা মানবেন না প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে” সংক্রমণ রোগ নিরোধ আইন” প্রয়োগ করা হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার এবং সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply