করোনা আতঙ্কের সঙ্গে হ্যাকাররা ছড়িয়ে দিচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস

|

সারাবিশ্বে চলছে করোনা আতঙ্ক। আর এই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররাও ছড়িয়ে দিচ্ছে আতঙ্ক আর কম্পিউটার ভাইরাস।

করোনা মহামারীতে রূপ নিয়েছে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের কিছু ইমেইল ফিশিং ষড়যন্ত্র শনাক্ত করেছে।
করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে সাইবার অপরাধীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শত শত ভুয়া ইমেইল ছাড়ছে। এ ছাড়া নিরীহ মানুষের কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড ১৯-এর সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব ভুয়া ইমেইল তারা দেখেছেন, সেগুলো অত্যাধুনিক মানের। এসব ইমেইলে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান, জাপানি ও তুর্কি ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাশাপাশি সাইবার অপরাধীরা পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, ইনন্স্যুরেন্স, বিনোদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় ব্যবহার করছে। প্রথমে প্রুফপয়েন্ট নামে সাইবার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছড়িয়ে পড়া কিছু ইমেইল দেখে সন্দেহ করেন।

এতে রহস্যজনক এক ডাক্তার লিখেছেন, তার কাছে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন রয়েছে। যে খবরটি চীনা ও ব্রিটিশ সরকার এখন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। প্রুফপয়েন্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, যারা এই ইমেইলে ক্লিক করেছেন, তাদের একটি ডকুসাইন পেজে নিয়ে যাওয়া হয় যেটি দেখতে আসল। সেটি ছিল সাইবার অপরাধীদের তৈরি একটি ওয়েবপেজ। যেখান থেকে মানুষের অ্যাকাউন্ট ন্যাম আর পাসওয়ার্ড চুরি করা হয়। সেই নামধাম ব্যবহার করে তারা মানুষের অন্যান্য অ্যাকাউন্টও হ্যাক করে।

প্রুফপয়েন্ট বলছে, তারা এমন প্রমাণও দেখেছে, যেখানে ধাপে ধাপে এ রকম দুই লাখ ইমেইল ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রুফপয়েন্টের কর্মকর্তা শেরড ডিগ্রিপো বলছেন, আমরা দেখেছি একনাগারে ৩৫ দিন ধরে এরকম ইমেইল বাইরে ছাড়া হয়েছে। প্রথমে শুরু হয়েছিল দিনে একটি করে ইমেইল, এখন প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি এ ধরনের ফিশিং মেইল ছাড়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আপনার জন্য পরামর্শ

বিশ্বজুড়ে করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার সময় থেকেই হ্যাকাররা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে আসছে। এবং লোকজনকে নানা ধরনের ইমেইল পাঠাচ্ছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের ইমেইল যারা ডাউনলোড করেন, তারা নিজের অজান্তেই হ্যাকারদের দেয়া কম্পিউটার ভাইরাস ডাউনলোড করেন। এ ধরনের ইমেইলে হ্যাকাররা সাধারণত গোপনে এজেন্ট টেসলা কি-লগার সফটওয়্যার ঢুকিয়ে রাখে।

প্রুফপয়েন্টের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, কি-লগারটি ডাউনলোড করার পর হ্যাকাররা আপনার প্রতিটি কি-স্ট্রোক রেকর্ড করে রাখতে পারবে। এবং এগুলো ব্যবহার করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য জেনে যাবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply