আরও ১২ বছর ক্ষমতায় থাকতে সংবিধান সংশোধন পুতিনের

|

আরও ১২ বছর প্রেসিডেন্ট থাকতে সংবিধান সংশোধন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন অনুমোদন পায়।

এর ফলে আগামী ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পথ সুগম হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। খবর এএফপির।

খবরে বলা হয়, সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে বুধবার রাশিয়ার পার্লামেন্টে তৃতীয় এবং শেষ পর্যালোচনা হয়। এরপর হয় ভোটাভুটি। সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৬০ এমপি। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র একজন। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৩ এমপি।

ফলে ছয় বছর করে আরও টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পথ অনেকটা পরিষ্কার হল পুতিনের। এখন আঞ্চলিক পার্লামেন্টের সমর্থন এবং গণভোটে রায়ের অপেক্ষা।

২০০০ সালে প্রথমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকেই টানা ২০ বছর ক্ষমতায় রয়েছেন। তার বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হঠাৎ সংবিধান পরিবর্তনের ঘোষণা দেন পুতিন।

সরকারের তরফে তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয় নি। তবে তখনই অন্য কিছুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এখন ধীরে ধীরে বিশ্ব গণমাধ্যমে তা প্রকাশ পাচ্ছে।

মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সামনে পুতিন আকস্মিক উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘সাংবিধানিক আদালত এ সংশোধনী অনুমোদন দিলে ২০২৪ সালের পরও তিনি ক্ষমতায় থাকছেন।’ বুধবার ভোটাভুটির পর সেটি আরও জোরালো হল।

এখন এটি রাশিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টে দুই-তুতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস হতে হবে। এরপর আগামী ২২ এপ্রিল সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। রাশিয়ায় পুতিনের বিপুল জনপ্রিয়তা থাকায় এসব ধাপও উতরে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

গণভোটে এ প্রস্তাব পাশ হলেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটানা ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড গড়বেন পুতিন। রাশিয়ার সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য তার আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার তার রয়েছে বলে মনে করেন পুতিন।

বুধবার ভোটাভুটি শেষে ফেডারেশন কাউন্সিলের স্পিকার ভ্যালেন্টিনা মাতভিয়েনকো বলেন, রাশিয়ার আধুনিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পাস হল। এ সংশোধনী পুতিনকে আগামী ২০২৪ সালের পর আবারও আগের প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদ অনুসারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ তিনি ছয় বছর করে পরপর আরও দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

পুতিন রাশিয়ায় দীর্ঘ ২০ বছর ক্ষমতায় আছেন। বর্তমান সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর আর প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারবেন না সাবেক এ কেজিবি কর্মকর্তা। এজন্য সংবিধান নামের সেই কাটা উপড়ে ফেলতে চান পুতিন।

তার এ পদক্ষেপকে ‘সাংবিধানিক ক্যু’ আখ্যা দিচ্ছেন সমালোচকরা। বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে পুতিন বাকি জীবনটাও ক্ষমতার শীর্ষে থাকার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে বহুবার ৬৭ বছর বয়সী পুতিন বলেছেন, আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তন হচ্ছে না।

স্ট্যালিনের পর রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি শাসক পুতিন। প্রায় ২০ বছর ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় থাকা পুতিন কখনও প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কখনও বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরমধ্য দিয়ে তিনি দেশটিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। তার ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার ইচ্ছা নিয়ে বহু আগ থেকে বিশ্লেষকরা সতর্কতা করে আসছেন।

রাশিয়ার পুরো একটি প্রজন্ম পুতিনকে ছাড়া অন্য কোনো শাসক দেখেনি। অদূর ভবিষ্যতে দেখার সম্ভাবনাও কম।









Leave a reply