করোনাভাইরাস: ভারত জুড়ে সতর্কতা, আমরা প্রস্তুত তো?

|

চেন্নাই থেকে মাহফুজ মিশু:

ভারতের চেন্নাই এসেছি গতকাল মানে শনিবার সন্ধ্যায়। কলকাতা থেকে চেন্নাই। তার আগে ঢাকা থেকে কলকাতা। এ যাত্রায় বাংলাদেশের একটি ও ভারতের দুটি বিমানবন্দরে যাত্রী হিসেবে করোনা সতর্কতা পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। তার ভিত্তিতেই এই লেখা।

প্রথমত, শনিবার সকালে যখন শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছালাম, তখন আমাদের কোনো তাপমাত্রা স্ক্যানিং হয়নি। তবে বোর্ডিং পাস দেয়ার সময় স্পাইসজেট কাউন্টার বারবারই জানতে চেয়েছে, এর মধ্যে চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, নেপালসহ করোনা আক্রান্ত কোনো দেশে গেছি কিনা? পাসপোর্টও পরীক্ষা করে দেখেছে তারা। তবে ঢাকা ত্যাগ করা যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা সংক্রান্ত কোনো লিখিত তথ্য রাখেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এবার আসেন কলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু বিমানবন্দরে। নামার আগেই ফ্লাইটে একটি ফর্ম পূরণ করতে হলো আমাদের। সর্দি জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি থেকে শুরু করে ভ্রমণ ইতিহাস সবই সেখানে লিখতে হলো। তারপর নামামাত্রই আমাদের একদিকে আলাদা করে নেয়া হলো। তারপর আবারো একটা ফরমের দুটি কপি পূরণ করতে হলো। তারপর তাপমাত্রা পরিমাপ। এক কপি রেখে দিল হেলথ ডেস্ক। অপর কপিটি সিলসহ দেয়া হলো। ইমিগ্রেশন অফিসার সেটি রাখলেন।

পুরো বিমানবন্দর জুড়েই সতর্কতা। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ব্যবহার করছেন মাস্ক। হাতের কাছেই মিলছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তারপর অবশ্য কলকাতা থেকে চেন্নাই, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। সেখানে অবশ্য করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো চেকিংয়ের মুখোমুখি হইনি আমরা। নেমেই খবর পেলাম, ওমান থেকে আসা চেন্নাইয়ের এক নাগরিকের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে ভারত সরকার।

এখানকার হোটেল ‘ট্রাইড্রেন্ট’-এ আমাদের থাকার ব্যবস্থা। যতবার হোটেলে ঢুকছি ততবারই তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে, জানানো হচ্ছে। বিকেলে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে যাওয়ার নির্ধারিত সূচি ছিল আমাদের। সেটিও বাতিল করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে, রোববার দুপুরে ঢাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত তিনজনের কথা নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। তাদের দু’জনই ইতালি ফেরত। বাকিজন তাদের পরিবারের সদস্য। শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়েই তারা বেরিয়েছেন। তাদের শরীরের তাপমাত্রা কি চেক করা হয়েছিল যথাযথভাবে? আমাদের তিনটি থার্মাল স্ক্যানারের দুটিই নাকি নষ্ট! এগুলো কেন কাজ করে না? আমাদের পাঁচ তারকা হেটেলগুলোই বা কতটা প্রস্তুত?

গেল ২-৩ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরের সময়ও তো হোটেল সোনারগাঁওয়ে কারো তাপমাত্রা চেক করতে দেখিনি! আমরা করোনাভাইরাসকে খুব ক্যাজুয়ালি নিচ্ছি না তো? যেখানে চীন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ইতালির মতো দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, এই সংকট মোকাবিলায়, সেখানে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজটুকু করছি তো? ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা তথা বাংলাদেশে আমাদের অস্বাস্থ্যকর নানা অভ্যাসের কারণেই তো ঝুঁকিতে আমরা! আমরাই তো সম্ভবত যেখানে সেখানে কফ থুথু ফেলা, নাক পরিষ্কার করা, যেকোনো সময় মুখে, চোখে হাত দেয়া একমাত্র জাতি! তাই এখন সরকারের কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগের পাশাপাশি দরকার আমার আপনার আমাদের সচেতনতা আর দায়িত্বশীলতা। চলুন, আচরণ পাল্টাই, নিরাপদ থাকি।

লেখক: বিশেষ প্রতিনিধি, যমুনা টেলিভিশন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply