অধিনায়কের বিদায়ের দিনে টাইগারদের যত রেকর্ড

|

অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে ম্যাচের ৫০তম জয় নিয়েই বিদায় নিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। দলের অভিভাবকের বিদায়ের দিনে তাই ভিন্নরুপে হাজির হলো টাইগাররা। তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের চমকে চোখ ছানাবড়া ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের। তামিম-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিই নয়, উদ্বোধনী জুটির নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে টাইগাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় একদিনের ম্যাচে বৃষ্টি কারণে নির্ধারিত ৪৩ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৩২২ রান সংগ্রহ করে তারা।

উদ্বোধনী জুটিতে তারা ভাঙেন ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েন তামিম-লিটন। তারা সংগ্রহ করেন ২৯২ রান। এর আগে ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুত ও মেহরাব হোসেন অপির উদ্বোধনী জুটি ছিল ১৭০ রানের। এর পরেও অবশ্য সেদিন বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল। সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি হলো পাঁচটি। যার তিনটিতেই জড়িয়ে আছেন তামিমের নাম।

এদিকে লিটন দাস দেখালেন ভিন্ন চমক। জাতীয় দলের এ তারকা দেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বলা যায় দানবরূপেই হাজির হয়েছিলেন তিনি। নিজের তো বটেই, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে তারপর থামেন।

বৃষ্টি শেষে ব্যাট হাতে চার-ছক্কার ঝড় তোলেন লিটন। ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস খেলেন তিনি। আগের ম্যাচে দেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস খেলা তামিমকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন লিটন। মুম্বার বলে লং-অনে সিকান্দার রাজার হাতে ধরা পড়েন এই ওপেনার। আউট হওয়ার আগে লিটন খেলে গেছেন ১৭৬ রানের ঝলমলে ইনিংস। ১৪৩ বলের ইনিংসটি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সাজান ১৬ চার ও ৮ ছক্কায়।

এদিকে ম্যাশের শেষ ওয়ানডেতে তামিম গত ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করলেন। আবারও সেঞ্চুরি পেয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। সিলেটের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলা তামিম পেলেন টানা দ্বিতীয় শতক।

এর আগে, দুপুর ২টায় টসে হেরে ব্যাট করতে নামে টাইগাররা। শুরু থেকেই মেরে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার। খেলা শুরু হওয়ার পর ৩৩.২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এরপর শুরু হয় বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর ফের যখন খেলা শুরু হয় তখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে।

বৃষ্টির আগে ১০১ ও ৭৯ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। বৃষ্টির পর ফের ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম।









Leave a reply