করোনাভাইরাস: লেখাপড়া চালু রাখতে চীনে অনলাইনে ক্লাস

|

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালু রাখতে নতুন নিয়ম করেছে চীন। ছাত্রছাত্রীদের এখন আর স্কুলে ফিরতে হবে না। তাদের অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান করা হবে বলে জানিয়েছে চীনের বৃহত্তম নগরী সাংহাই কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংহাইয়ের শিক্ষা কমিটির প্রধান লু জিং এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সাংহাইয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা ২ মার্চ থেকে অনলাইনে দেয়া হবে। রয়টার্সকে জানায়, এর আগে সাংহাইয়ের কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে স্কুল বন্ধ থাকবে বলে বলে জানিয়েছিল। ইতিমধ্যে অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। জানুয়ারির শেষদিকে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাঠদান অব্যাহত রাখবে।

চীনের বেইজিং নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফাত বিন মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। কোনো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ ছাড়া ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা যারা শীতকালীন ছুটি কাটাতে নিজ নিজ দেশে চলে এসেছি তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছিল কীভাবে সেমিস্টার শেষ করব। তবে আমাদের সব আশঙ্কাকে দূর করে দিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ঘোষণায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছি।’

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জু ইউটিং নামে এক চীনা শিক্ষার্থী জানায়, ‘নববর্ষের ছুটি শেষ হলেও করোভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সেমিস্টার কার্যক্রম পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের সকলকেই বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে। তবে এ অবস্থায় বাড়িতে বসেই আমরা আমাদের পাঠদানে অংশ নিতে পারছি। এটি একটি অসাধারণ ব্যাপার।’ অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের আলিবাবা’র ডিংটক বা ওয়েইসি নামের অ্যাপস ব্যবহার করতে হচ্ছে। এদিকে শিক্ষার্থীরা তো বটেই, শিক্ষকদের জন্যও ব্যাপারটি বেশ নতুন ধরনের। এই পাঠদান চালাতে নতুন অনেক দক্ষতা রপ্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছে তা সঠিকভাবে দেয়ার ব্যাপারটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জেসি শি নামে চেংডুর শহরের এক শিক্ষক বলেন, অধিকাংশ শিক্ষকই কখনও অনলাইনে পাঠদানের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। তাই তাদের জন্যও এটি পুরোপুরি নতুন। এখানে একটি ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলা থেকে শুরু করে উপস্থাপনার সময় ডিজিটাল লাল কলম ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের লিখিত মন্তব্যের মাধ্যমে অনলাইন নিয়োজিত রাখার মতো বিষয়গুলো রপ্ত করাটা একটা চ্যালেঞ্জ।’ চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় ইন্টারনেট ক্লাউড ক্লাসরুম চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে এটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠদান কার্যক্রমকে আরও সহজভাবে উপস্থাপন করা হবে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply