ভাষার ইতিহাস জানতে বাংলাদেশে সাইকেল চালিয়ে ভারতের ৭ নাগরিক

|

পাবনা প্রতিনিধি
বাইসাইকেল নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন একদল বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষ। উদ্দেশ্য বাংলা ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস জেনে ওপার বাংলায় পৌঁছে দেয়া। এর মাধ্যমে দুইদেশের মৈত্রীর বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা তাদের।

তাদের শ্লোগান ‘বাংলা কখনও হয়না ভাগ, বাংলা ভাষায় আমরা এক’। ‘ভাষা সূত্র’ নামের এ ভ্রমণ দলটি প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে বাইসাইকেলে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে এবারের ভ্রমণটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি উৎসর্গ করেছেন তারা।

বাইসাইকলে নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার চন্দননগর এলাকা থেকে ৭ সদস্যের এই দলটি বাইসাইকেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এই দলটির মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং একজন নারী সদস্য রয়েছেন। পশ্চিম বঙ্গের রানাঘাট, গেদে ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রবেশ করে দলটি। সেখানে অবস্থিত শহীদ মিনারে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ওইদিন রাতে দলটি মেহেরপুরের মুজিবনগরে পৌঁছায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সেখানে তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্যে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

একইদিন বিকেলে কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি হয়ে পদ্মানদী পারি দিয়ে বিকেল চারটায় প্রবেশ করে পাবনা শহরে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মোকলেসুর রহমান তাদের বরণ করেন। পরে তাদের নিরাপত্তা এবং রাত্রীকালীন আবাসনের জন্য ব্যবস্থা করে তাদের শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসন।

পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি দলটি কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়ি ও ঐতিহাসিক রাজবাড়ি তাড়াশ ভবন পরিদর্শন করেন। রাতে দলটি পাবনাতে অবস্থান করে মঙ্গলবার জেলার গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলো পরিদর্শন ও কেন্দ্রীয় শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ অর্পনের পরে বিকেলে যাত্রা করেন টাঙ্গাইল এর পথে।

সাইকেল আরোহী এই প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যে প্রায় তিনশত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। এই প্রতিনিধি দলটি পাবনা নগরবাড়ি আরিচাঘাট ও পদ্মানদী পাড়ি দিয়ে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় পৌঁছবেন একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে। ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন দলটি। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে যশোর বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ভারতে ফিরবে তারা সাতজন। বাংলাদেশ ভ্রমণে বাইসাইকেল প্রতিনিধি দলটি সব মিলিয়ে ১ হাজার ১শ’ কিলোমিটার যাত্রা করবেন বলে জানা গেছে।

কলকাতা থেকে আসা সাইক্লিস্ট লোপা মুদ্রা রায় জানান, ভাষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রপাত হয়। আর এই দেশ স্বাধীনের নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। একজন বাঙ্গালীর নেতৃত্বেই কোটি কোটি মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো। তাই এবারের ভ্রমণটা সেই মহান মানুষটির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী সাইক্লিস্ট সুদিপ্ত পাল বলেন, ‘ভারতেও নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করা হয় ভাষার মাসটি। ভাষা শহীদদের সম্পর্কে জানতে প্রতি বছর ভাষার মাসে এ দেশে আসা। তবে ভাষার যে সংগ্রাম সেটি এখন শেষ হয়ে যায়ন। কারণ প্রতিনিয়তই বাংলা ভাষার মধ্যে ভিন দেশীয় শব্দের ব্যবহার বাড়ছে। এটি রুখতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।‘

দলটির দলনেতা স্বরজিত রায় বলেন, বাংলাদেশের আথিতেথতায় মুগ্ধ তারা। কাঁটাতারের বেড়া দু’দেশকে বিভক্ত করলেও ভাষাকে বিভক্ত করতে পারেনি। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার ইতিহাস পৌঁছে দেবার লক্ষে কাজ করছেন তারা। বাংলা ভাষা রক্ষার্থে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের ইতিহাস জেনে ওপার বাংলার তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।









Leave a reply