অঞ্জন দত্ত কি একাকিত্বে ভোগেন?

|

তোয়াহা ফারুক:

দু’বাংলায় সমান জনপ্রিয় তিনি। সেটি কতটুকু তার অভিনয় সত্তা আর কতটুকু গায়ক সত্তার জন্য সেটি নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। তবে বুধবার তিনি ঢাকায় এসেছিলেন পরিচালক হিসেবে। অসংখ্য ভক্তকুলের মাঝে কথা বলেছেন তার সিনেমা ‘ফাইনালি ভালোবাসা’ নিয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব-১৪২৬’–এ টিএসসি অডিটরিয়ামে দর্শকদের সাথে বসে নিজের সিনেমা দেখেন অঞ্জন দত্ত। পরে সিনেমা নিয়ে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন।

‘ফাইনালি ভালোবাসা’ সিনেমাটির প্রদর্শনীর সময় অডিটোরিয়ামে তিলধারণের জায়গা ছিল না। প্রতিটি দৃশ্যেরই যেন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দর্শক। গানে গলা মিলিয়েছেন। হাততালি পড়েছে, শিষ বেজে উঠেছে। সিনেমা শেষে ঢাকার দর্শকের প্রশংসায় মেতে উঠেন অঞ্জন। সিনেমার সাথে একাত্মতা ঘোষণার তারিফ করে টুপিখোলা অভিবাদন জানান। কলকাতার দর্শকের চেয়ে ঢাকার দর্শককে ঢের এগিয়ে রাখলেন। বললেন, তোমরা যে হিউমার বুঝে রি–অ্যাক্ট করলে, সেটা কলকাতায় দেখিনি আমি। এ ধরনের ভিন্ন রকমের ছবিতেও যে মুহুর্মুহু তালি পড়তে পারে, তা তোমরাই দেখালে।

অঞ্জন সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন এই ছবির অন্যতম অভিনয়শিল্পী সুপ্রভাত দাসকে। তিনিও আড্ডায় মেতে ওঠেন দর্শকদের সাথে।

দর্শক সারি থেকে অঞ্জনের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করবেন না? জানালেন, কেবল অভিনয়ই নয়, তিনি বাংলাদেশের ছবি পরিচালনাও করতে চান। ফারুকী অভিনীত ‘ডুব’ সিনেমায় হুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে অভিনয় করার কথা থাকলেও সেটি শেষ পর্যন্ত তার করা হয়ে ওঠেনি। পরে তিনিই নাকি ইরফান খানকে নেয়ার কথা বলেন।

এছাড়াও, ফাখরুল আরেফিন পরিচালিত ‘গণ্ডি’ সিনেমায় সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের করা চরিত্রটি প্রথমে তার করার কথা ছিল। কিন্তু সময় না মেলায় সেটি আর সম্ভব হয়নি।

অঞ্জনের ছবিতে শিল্পী চরিত্র থাকেই। আর সেই চরিত্রে যেন একাকিত্ব, যন্ত্রণাবোধ মিলেমিশে থাকে। এর কারণ হিসেবে জানালেন, একজন শিল্পীর জন্য যন্ত্রণা জিইয়ে রাখা জরুরি। একাকিত্বের চর্চা করাও। এই যন্ত্রণাটাই মানুষকে স্বতন্ত্র করে তোলে বলে মনে করেন অঞ্জন।

এক তরুণী জানতে চাইলেন, অঞ্জন অভিনীত সিনেমায় তাকে তরুণীদের সাথে প্রেম করতে দেখা যায়, এর কারণটা কী? অঞ্জনের উত্তরের মাঝেই বাগড়া দিলেন সুপ্রভাত। তরুণীকে সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, আপনি দাদাকে ভালোবাসেন? তরুণী জানালেন- বাসি। সুপ্রভাতের জবাব- উত্তরটা তো আপনারই ভালো জানার কথা, আপনারা কেনো ওনাকে পছন্দ করেন?

দর্শকদের সাথে আলাপচারিতা শেষে টিএসসি অডিটোরিয়ামের গ্রিনরুমে বসে আরেকপ্রস্থ কথা বললেন গণমাধ্যমের সাথে। যথারীতি অভিনেতা সুপ্রভাতকে সাথে নিয়েই। তার জনপ্রিয়তায় তোড়ে সুপ্রভাত যেন একা না হয়ে পড়েন সেদিকে যেন বাড়তি নজর। দু’জনই বললেন, বাংলা সিনেমায় পরিবর্তনের সময় এসেছে। এক প্যাটার্নে গল্প না বলে, নানা গল্প, চরিত্র ও ফ্রেশ ব্লাডের সন্নিবেশের ওপর জোর দিলেন তারা।

অঞ্জন মনে করেন, ভালোবাসা বহুমাত্রিক। শারীরিক, মানসিক- দুই ভালোবাসাই গুরুত্বপূর্ণ। বর্ণ, জাতপাত, ধর্ম, কিংবা লিঙ্গ ভেদ মেনে চলে না ভালোবাসা। এগুলো আরোপ করাটাও ঠিক না। সিনেমায় এই মেসেজই যেন দিতে চাইলেন মিস্টার দত্ত।

দু’বাংলায় তার তুমুল জনপ্রিয়তা। তার গানে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান অসংখ্য তরুণ-তরুণী। তবু অঞ্জন দত্তের চোখেও যেন সেই একাকিত্বের ছাপ। আসলেই কি তিনি একাকিত্বে ভোগেন? এ প্রশ্নটি আর করা হয়ে ওঠেনি।









Leave a reply