রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার কার্যক্রম চলবে: আন্তর্জাতিক বিচার আদালত

|

নেদারল্যান্ডের হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে। বিচার স্থগিতে মিয়ানমারের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছে আইসিজে’র বিচারকদের বেঞ্চ।

আজ বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময়) বিকালে এক অন্তবর্তী আদেশে এ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা দায়ের করে। এই মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত করতে মিয়ানমারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এক অন্তর্বর্তী আদেশে এসব রায় দেন বিচারক।

বিচারক বলেছেন, রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় এড়াতে পারে না মিয়ানমার। মামলায় মিয়নমার যথাযথ সহযোগিতা করেনি বলেও অভিযোগ করেছেন আদালত। এই মামলা নিয়ে মিয়ানমার যে আপত্তি করেছে সেটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছেন বিচারক।

হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রায় পড়া শুরু করেন আদালতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ। এ সময় অপর ১৪ জন স্থায়ী বিচারপতি ও দুজন অ্যাডহক বিচারপতি আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের চারটি আদেশ হলো জাতিসংঘ কনভেনশন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে হবে। গণহত্যার প্রমাণ ধ্বংস করা যাবে না। সশস্ত্র বাহিনী ফের কোনো গণহত্যা ঘটাতে পারবে না। চার মাস পরপর মিয়ানমারকে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে, যত দিন না পর্যন্ত বিচারের চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়।

আদলত আরও বলেন, মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর দোষী সদস্যদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। আগামী চার মাসের মধ্যে অন্তবর্তী আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে হবে।

আদালত মনে করেন, গণহত্যা সনদের ধারা ২–এর আলোকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী একটি বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী (প্রোটেক্টেড) গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচ্য। সনদের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর আওতায় (ধারা ৮ ও ৯) এই মামলা দায়েরের গাম্বিয়ার প্রাইমা ফেসি অধিকার আছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

এর আগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা ওই মামলার শুনানি হয় গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর। তারপর ১৭ বিচারক বৈঠক করেছেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ওই ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এ মামলার ওপর গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের হেগে শুনানি হয়। সেখানে মিয়নিমার নেত্রী অং সান সু চি নিজের দেশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন চালায়নি। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার মুখেই নাকি লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে সমালোচিত হয়েছেন এক সময় শান্তিতে নোবেল পাওয়া সু চি।









Leave a reply