কানাডা ফিরে গেছেন মেগান মার্কেল, সমাধানের নতুন চেষ্টা করছেন রানি

|

ব্রিটিশ রাজপরিবারের অবস্থা এখন তথৈবচ। রাজ পরিবারের সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বোমা ফাটিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। এতে, হতভম্ব রাজপরিবার। এমনিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ পরিবারে মতের অমিল ও দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটনের সাথে হ্যারির স্ত্রী মেগানের দ্বন্দ্বের খবর বেশ ভালোভাবে ছড়িয়েছে।

এসব দূরত্ব ও দ্বন্দ্বের কথা রাজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও জানতেন। হ্যারি-মেগান এমন কিছু করতে পারেন আঁচ করে তাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার কঠোর নির্দেশনা ছিল, এখনই এসব করা যাবে না। কিন্তু ‘একরোখা’ হ্যারি-মেগান তা না-শোনায় ক্ষুব্ধ রানি। এমনকি সমাধান না হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

দ্যা গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, ডিউক ও ডাচেস অফ সাসেক্সের দাবি-দাওয়া মেনে কীভাবে তাদের রাজ পরিবারে রাখা যায়, তার পথ খুঁজছেন রানি, প্রিন্স চার্লস, প্রিন্স উইলিয়ামের ঘনিষ্ঠ লোকজন। সে দলে স্থান পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলও।

রাজ পরিবারের সদস্যপদ ছেড়ে যাওয়ার আগেই কানাডা পাড়ি দিয়েছিলেন মেগান। ছ’সপ্তাহ কানাডায় কাটিয়ে গত সপ্তাহেই ব্রিটেনে ফিরেছিলেন তারা। কিন্তু ছেলে আর্চিকে সেখানেই নিজের বন্ধুর দায়িত্বে রেখে এসেছিলেন মেগান। সূত্রের খবর, ব্রিটেনে ফিরে এই ঘোষণার পর একটা অশান্তি এবং অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বুঝেই হ্যারি-মেগান ছেলেকে আনেননি। বুধবার রাতে প্রথম নিজেদের তৈরি করা ওয়েবসাইটে সিদ্ধান্ত ফাঁস করেন হ্যারি-মেগান। তারপর তা ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরই মেগান পাড়ি দিয়েছেন কানাডা। যেকোনো সময় হ্যারিও যোগ দিতে পারেন তার সাথে।

হ্যারি-মেগান ঘোষণা অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন ও সাধারণের জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ব্রিটেন এবং উত্তর আমেরিকায় ভাগাভাগি করে থাকবেন তারা। সেক্ষেত্রে কানাডাতেই দ্বিতীয় ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করছেন হ্যারি-মেগান, এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পেড়েছে। হ্যারি ঘনিষ্ঠ একজনের দাবি, সে পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনই বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। কারণ, আগামী সপ্তাহেই বাকিংহামে হ্যারির কাজকর্ম রয়েছে, ফলে তাকে ফিরতেই হবে।

এখন রানির মধ্যস্থতায় কী ধরনের সমাধান বেরিয়ে আসে এবং হ্যারি-মেগান সেটি কতটুকু মেনে নেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ পরিবারের ভাঙন ঠেকানোর বিষয়টি।









Leave a reply